দেশের প্রথম মহিলা শিক্ষক! যিনি বা’ল্য’বি’ধ’বা’দে’র জী’ব’ন পা’ল্টে দিয়েছিলেন

সময়টা তখন ১৮৩১। ভারতে তৎকালীন সমাজের কাছে মহিলাদের শিক্ষা বিষয়টিই যেন অনধিকার চর্চা ছিল। বাল্যবিবাহ, নিজের তুলনায় বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ, অশিক্ষা, বৈধব্য যন্ত্রণার বেড়াজালে আবদ্ধ ছিল নারী জীবন। তবে সমাজের সকল বেড়াজাল ছিন্ন করে সমাজ পরিবর্তন করার লক্ষ্য নিয়ে সেই সময়ে লড়াই চালানোর সাহস দেখিয় ছিলেন মহারাষ্ট্রের নায়গাঁওয়ের বাসিন্দা সাবিত্রীবাই ফুলে।

তৎকালীন সমাজের নিয়ম অনুসারে সাবিত্রীরও মাত্র নয় বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় কাটগুন গ্রামের বাসিন্দা জ্যোতিবা ফুলের সঙ্গে। প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে হাঁটার অদম্য জেদ ছিল সাবিত্রীর। তাই স্বামী জ্যোতিবার থেকে লুকিয়ে পাঁচবছর পর্যন্ত জ্যোতিবার বই ব্যবহার করে গোপনে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য জ্যোতিবা সবটা জানতে পারেন এবং তিনিও সাবিত্রীকে সমর্থন করেন।

এরপর এই দম্পতি সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে পথে নামেন। জ্যোতিবার অনুপ্রেরণায় মিসেস মিচেলের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন সাবিত্রী। এরপর মিসেস ফারারের ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ নেন তিনি। তারপর শুরু হয় তার পথ চলা। আটজন বিধবা মহিলাকে নিয়ে দেশের মাটিতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহিলাদের জন্য স্কুল খুলে বসেন সাবিত্রী।

এই পথ কিন্তু তার জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। তিনি যখন বিদ্যালয়ে যেতেন তখন সমাজের গোঁড়া মনস্করা তার প্রতি পচা ডিম, গোবর, নর্দমার কাদা ছুঁড়ে মারতো। তবুও হার মানেননি সাবিত্রী। তিনি তার লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। আধুনিক ভারতের প্রথম ভারতীয় মহিলা শিক্ষিকা হতে পেরেছিলেন সাবিত্রী। শুধু তাই নয় বাল্যবিধবাদের অধিকারের লড়াই নিয়েও গোঁড়া সমাজের মূলে আঘাত করেছিলেন সাবিত্রী এবং জ্যোতিবা।

যার দরুন কম লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়নি তাদের। সমাজ তাঁদের এক ঘরে করে দিয়েছিল। বসতবাটি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। রাস্তায় বেরোলেই জুটতো লাঞ্ছনা-গঞ্জনা। তবে নারীর অধিকার এবং সম্মান ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ের ময়দান থেকে সাবিত্রীকে সরানো সম্ভব হয়নি। ১৮৫২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন “মহিলা সেবা মন্ডল”। ১৮৭৩ সালে তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল “সত্যশোধক সমাজ”। সমাজের শত শত কুসংস্কার, গ্লানি, ক্লেদ থেকে সমাজকে রক্ষা করার ব্রত নিয়েছিলেন সাবিত্রী এবং জ্যোতিবা। আধুনিক সমাজ তাদের কাছে ঋণী।