স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসায় বিভিন্ন সমস্যা, জট কাটাতে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যসচিব

আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের প্রতিটি মানুষের জন্য চালু হয়েছে “স্বাস্থ্য সাথী” প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবার বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা চিকিৎসা খাতে সরকারের তরফ থেকে অনুদান পাবেন। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে রাজ্যের প্রায় দশ কোটি মানুষ এই প্রকল্প থেকে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। তবে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে প্রথম দিন থেকেই প্রবল বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছে।

আগে রাজ্যের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে বাকি আড়াই কোটি মানুষও স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য সাথী নিয়ে হাসপাতালগুলিতে রোগীরা ভিড় করলে কিভাবে তা সামাল দেওয়া যাবে সেই নিয়ে বিশেষ চিন্তিত রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। তার উপর আবার বেসরকারি নার্সিং হোম গুলিও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসা পরিষেবার মূল্য পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছে।

সম্প্রতি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য দপ্তরে একটি বৈঠক করে নিজেদের অভাব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলেছিলেন, সরকারের তরফ থেকে প্রতিটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় যে অর্থমূল্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এত কম অর্থে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলি চিকিৎসা পরিষেবা দিতে অপারগ। তার উপর আবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে টাকা আসতেও দেরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প সংক্রান্ত সকল অভাব-অভিযোগ দূর করতে তৎপর হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এসংক্রান্ত অভিযোগগুলি সম্পর্কে জানতে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী হাসপাতালের শীর্ষ কর্তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, হাসপাতালের দাবি মেনে সরকার নির্ধারিত চিকিৎসা পরিষেবার মূল্য তালিকা পুন মূল্যায়ন করা হবে। তবে হাসপাতাল চত্বর থেকে কোনো রোগী যেন বিনা চিকিৎসা পরিষেবায় ফিরে না যান, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে বলে জানাচ্ছে রাজ্য।