মাঝ সমুদ্রে উ’ল্টে গে’লো নৌকা, মৃ’ত্যু ৪৩ জনের, ছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলেই ঘটলো ভয়ঙ্কর নৌকা ডুবির ঘটনা। যে ঘটনার জেরে ৪৩ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ওই নৌকাতে উপস্থিত বাকি ৮৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ, মিশর, সুদান ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা অভিবাসীরা ছিলেন ওই নৌকাতে। লিবিয়ার উত্তর–পশ্চিম উপকূলের জুয়ারা থেকে নৌকায় করে যাত্রা শুরু হয়েছিল।

তবে মাঝ সমুদ্রেই ঘটে গেলো এই বড়োসড়ো বিপত্তি। গ্রীষ্মকালীন সময়ে অভিবাসীরা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। বিগত বেশ কয়েক মাস যাবত তিউনিশিয়া উপকূলে বারংবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তিউনিশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জারজিস বন্দরের কাছ থেকে বিপদের মুখে পড়া অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়েছে। এদের প্রত্যেকের বয়স ছিল ৩-৪০ বছরের মধ্যে।

দক্ষিণ আফ্রিকাতে এই মুহূর্তে চরম দারিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে অভিবাসীরা দেশ ছেড়ে অন্য রাষ্ট্রে পালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমধ্যসাগর পার করে ইউরোপের দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। তাদের বেশিরভাগেরই গন্তব্য পথ ইতালি। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ১৯ হাজার ৮০০ জন অভিবাসী ইতিমধ্যেই বিগত কয়েক মাসে ইতালিতে পৌঁছেছেন। গত বছর এই সংখ্যাটা ছিল ৬ হাজার ৭০০।

করোনা কালীন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দারিদ্র্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেশের বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পৌঁছে গিয়েছেন। যে কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষেরা পরিবার সমেত ভূমধ্য সাগর পেরিয়ে ইতালিতে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আর তা করতে গিয়েই বারংবার ঘটে যাচ্ছে বিপদ। এর আগেও ওই অঞ্চলে একাধিকবার অভিবাসীদের নৌকাডুবি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।