“অভিযুক্তরা সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে”, এখনো বিচারের আশায় তাপসী মালিকের বাবা

সেই ভয়াবহ দুঃসহ দিন পেরিয়ে দেখতে দেখতে প্রায় ১৪টা বছর পেরিয়ে গিয়েছে। সেই দিনটি, যে দিন সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানার জন্য প্রস্তাবিত জমিতে তাপসী মালিকের দগ্ধ দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছিল! যুগ বদলেছে’, সরকার বদলেছে। বদলায়নি বিচারব্যবস্থা। তাই তো সিপিএমের যে দুষ্কৃতীরা একসময় তাপসী মালিকের উপর চরম বর্বরোচিত অত্যাচার চালিয়ে তাকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দিয়েছিল, আইনের ফাঁক গলে তারা আজ সর্বসমক্ষে বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কোনো পরিবার কি তার মেয়ের খুনিকে ভুলে যেতে পারে? তাপসী মালিকের পরিবারও পারে নি! বিশেষত, সিপিএমের যে দুই নেতার উপর তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল, আজ তারা তার পরিবারের সামনেই মাথা উঁচিয়ে ঘুরছে। এ দৃশ্য সহ্য করা যায় না। যেমনটা পারছেন না তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক। তার কথা অনুযায়ী, “মেয়ের খুনিদের চোখের সামনে ঘুরে বেড়াতে দেখলে বুকটা যেন ফেটে যায়!”

তবুও আশাহত হননি তিনি। তাইতো একে একে চৌদ্দটা বছর পেরিয়ে গেলেও সুবিচারের আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন মনোরঞ্জন মালিক। মমতা সরকারের উপর চরম বিশ্বাস রয়েছে তার। তার আশা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারই পারে তার মতো অসহায় পিতাকে মেয়ের উপর হওয়া অত্যাচারের সুবিচার এনে দিতে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর পূর্ণ আস্থা যাপন করছেন তিনি।

দুই সিপিএম নেতা সুহৃদ দত্ত এবং দেবু মালিক, তাপসী মালিকের হত্যাকারী তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল তাদের। তবে হলে কি হবে, আইনের ফাঁকে জামিনের অছিলায় আজ তারা সমাজে ঘুরছে। তাদের অবশ্য দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাদের ফাঁসানো হয়েছে! তবে সেই দাবি মেনে নিতে নারাজ মনোরঞ্জন মালিক। কারণ সিবিআই তদন্ত করেছিল যে, তারাই তো উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে সাজার বন্দোবস্ত করেছিলেন। আইনের ফাঁক গলে এখন বাইরে ঘুরছে অপরাধীরা! উপযুক্ত বিচারের আশায় এখনো বুক বেঁধে রয়েছেন নির্যাতিতা তরুণীর বাবা।