৭৩ বয়সী মহিলা জন্ম দিয়েছেন যমজ সন্তানের, তবে ১ বছরের মাথায় মৃত্যু হলো ৮৪ বছর বয়সী বাবার

বর্তমান প্রযুক্তির দুনিয়ায় কোনও কিছুই আর অসম্ভব নয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধ্যকে সাধন করে ফেলেছে মানুষ। প্রযুক্তির অনবদ্য আবিষ্কার আইভিএফ পদ্ধতি। যে পদ্ধতিতে সন্তানহারা বহু দম্পতিই নিজ সন্তানের মুখ দেখতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অন্ধপ্রদেশের ৭৩ বছর বয়সি ইয়েরামাত্তি মানগায়াম্মা এবং তার ৮৪ বছরের স্বামী রাজা মানগায়াম্মা।

দীর্ঘ ৫৭ বছরের বিবাহিত জীবন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও এই দম্পতি সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। তবে আশা হারান নি তারা। তাইতো উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে আইভিএফ পদ্ধতি মারফত ৭৩ বছর বয়সেও মা হতে পেরেছেন ইয়েরামাত্তি। পৃথিবীতে সবথেকে বয়স্ক বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ইয়েরামাত্তি ও রাজা। আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে তাদের কোলজুড়ে এসেছে তাদের জমজ দুই কন্যা সন্তান।

তাদের সন্তানদের কাছে পেয়েও সন্তান সান্নিধ্য বেশিদিন উপভোগ করতে পারলেন না রাজা। জমজ দুই কন্যা সন্তানের বয়স যখন এক বছর, তখনই হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হয়েছে তাদের বাবার। বর্তমানে জমজ দুই সদ্যোজাতকে একাই সামলাচ্ছেন ইয়েরামাত্তি। সান্তনা কেবল একটাই, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত নিজের জমজ দুই সন্তানের মুখ দেখে যেতে পেরেছেন রাজা।

এক বছর আগে দুই কন্যা সন্তানের জন্মের পর তাদের কোলে নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রাজা। নিজ সন্তানের মুখ দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। তবে সেই সুখ বেশিদিন সইলো না তার কপালে। তাই তো নিয়তির অমোঘ টানে শেষমেষ দুই সদ্যোজাত শিশু এবং বৃদ্ধা স্ত্রীকে সংসারে ফেলে রেখেই মৃত্যুবরণ করেছেন রাজা। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক পিতার মৃত্যু হলো।