ভারতের সামনে ভয়ঙ্কর বিপদ, ধুলোর কারণে গলছে হিমালয়, গঙ্গায় ভাসবে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিজ্ঞানী ইয়ুন কিয়ান এবং ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি ম্যাড্রাস এর চন্দন সারঙ্গি সম্প্রতি হিমালয় এবং তার বরফ গলে যাওয়া সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রকাশ্যে এনেছেন। সেই গবেষণার তথ্য দাবি করছে, এশিয়া এবং আফ্রিকা থেকে উড়ে আসা ধুলো বয়ে যাচ্ছে হিমালয়ের সুউচ্চ শৃঙ্গগুলোর উপর দিয়ে। আর তার পরিণামে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে এবং তাড়াতাড়ি গলে যাচ্ছে হিমালয়ের বরফ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটা আসলে সেই ধুলো নয় যা নাকে লাগলে একটা হাঁচি দিয়েই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যাবে।

এর পরিমাণ অনেকটাই এবং সেটাই ডেকে আনছে বিপদ। ইয়ুন কিয়ান এবং চন্দন সারঙ্গি বলেছেন, বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় অ্যালবেডো এফেক্ট, যা জড়িয়ে আছে কোনও বস্তুর সূর্যের উত্তাপ শুষে নেওয়া এবং বিকিরণ করার পদ্ধতির সঙ্গে। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, ধুলো এমনিতেই সূর্যের উত্তাপ অনেক বেশি পরিমাণে শোষণ করতে পারে, কারন তার রংটাও হয় গাঢ়। কোনও গাঢ় রঙের জিনিস যেমন বেশি তাপ শোষণ করে, এই ব্যাপারটাও ঠিক তাই। এর ফলে সূর্যের তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয়ে থাকা ধুলোর রাশি যখন হিমালয়ের বরফজমা শৃঙ্গগুলোর সঙ্গে ঘষা খাচ্ছে, তখন বরফ গলে যাচ্ছে নিমেষে এবং এই জায়গা থেকেই দেখা দিয়েছে বিপদ সঙ্কেত।

ভারতের অনেক নদ-নদীই, যেমন গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র এরাও মূলত বিপুল জলরাশি পায় হিমালয়ের গলা বরফ থেকে। তার একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। ফলে হিমালয়ের বরফ গলে গিয়ে এই সব নদ-নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেলে একটা ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে যদি বরফগলা জলের পরিমাণ অল্প সময়ের মধ্যে হারে বাড়তে থাকে, তবে স্বাভাবিক ভাবেই প্লাবন দেখা দেবে। যা এই দেশকে ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। কিয়ান এবং সারঙ্গি এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষণা যাতে সমস্যার একটা সুরাহা হয়। আশা করা যায় তাঁরা ভবিষ্যতে ভালো খবর শোনাবেন তাঁরা।