শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হবে না, জেনে নিন

আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে আর মাত্র কিছুদিন দেরি আছে।রাজ্যজুড়ে এখন তাই ভোটপূর্ব প্রস্তুতি চলছে। সরকারি কর্মচারীদের ভোটকর্মী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে নবদ্বীপ শহরচক্রের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা একুশের নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের কর্তব্য পালনে নারাজ। তারা তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী পোলিং অফিসার হিসেবেই নিযুক্ত হয়েছেন।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নবদ্বীপ শহরের বিভিন্ন স্কুলের শতাধিক প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এতে আপত্তি তোলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষকদের পদ মর্যাদা এবং বেতনক্রম অনুযায়ী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তারা।

সেই দাবি বিবেচনা করে শেষমেষ “বিধানসভা নির্বাচন–২০২১” এর পোলিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে নবদ্বীপ শহরচক্রের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের। তৃণমূল কংগ্রেস প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নবদ্বীপ শহরচক্রের সভাপতি নিতাইচন্দ্র দাস জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এদিকে নবদ্বীপের এপিসি ব্লাইন্ড স্কুলের দৃষ্টিহীন শিক্ষক মৃণালকান্তি সাহাকেও ভোট কর্মী হিসেবে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। এই নিয়ে তিনিও বেশ অস্বস্তিতে ভুগছেন। ব্রেইল পদ্ধতি ছাড়া তিনি লিখতে অথবা পড়তে পারেন না। সংশ্লিষ্ট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর নদিয়া জেলা সম্পাদক বাসুদেব চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে এনেছেন। তাকে যাতে ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় আপাতত সেই চেষ্টাই চালানো হচ্ছে।