একেই বলে সুযোগের সদ্ব্যবহার, এই মুহূর্তে পঙ্গপাল হানায় অনেক বেশি লাভবান হয়েছেন কৃষকরা

অনবরত চলছে প্রজনন

কৃষিক্ষেতে পঙ্গপালের আক্রমণ কৃষকদের কাছে রীতিমতো প্রকৃতির অভিশাপ স্বরূপ। ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের আক্রমণে সর্বস্বান্ত হয়ে যান কৃষকরা। ভারতের মতো বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই কম বেশি পঙ্গপাল হানা দিতে দেখা যায়। তবে সেই পঙ্গপালের আক্রমণ কিন্তু কেনিয়ার বাসিন্দাদের কাছে রীতিমতো আশীর্বাদস্বরূপ হয়ে উঠেছে। কারণ যে পঙ্গপালের জন্য বিঘার পর বিঘা ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেই পঙ্গপাল বিক্রি করেই মোটা টাকা লাভ করছেন তারা।

আফ্রিকা মহাদেশের মূলত এক কৃষিপ্রধান দেশ কেনিয়া। এই দেশের কৃষকরাও পঙ্গপালের আক্রমণের জেরে বেজায় মুশকিলে পড়েছেন। তবে শাপে বর হলো যখন প্রশাসনের উদ্যোগে সেই দেশের স্থানীয় একটি বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা পঙ্গপাল মেরে তা দিয়ে উৎকৃষ্টমানের প্রোটিনসমৃদ্ধ পশুখাদ্য বানিয়ে ফেললো। এই কর্মকান্ডের জেরে এখন কেনিয়ার ফসলের জমিজুড়ে ফাঁদ পেতে পঙ্গপাল ধরতে ব্যস্ত কৃষকেরা।

এর ফলে একদিকে যেমন পঙ্গপালের আক্রমণ থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি অপর দিকে ফসলহারা কৃষকদের আয়ের অন্য একটি রাস্তাও খুলে গিয়েছে। আবার পশুপালনকারীরাও অত্যন্ত কম মূল্যে উচ্চ গুণমান সম্পন্ন পশুখাদ্য পেয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ফসলহন্তারক পঙ্গপাল ব্যবহার করেই গড়ে উঠেছে এক নতুন অর্থনীতি। প্রসঙ্গত, পঙ্গপাল থেকে পশু খাদ্য তৈরীর এই অভিনব ভাবনাটি প্রথম পাকিস্তানের কৃষকদের মাথায় এসেছিল।

তবে সে দেশের প্রশাসনের উদ্যোগের অভাবে কৃষকরা তেমন লাভ করতে পারেননি। কিন্তু আফ্রিকার কেনিয়া দেশটি তা করে দেখিয়েছে। কেনিয়ার ফসলের জমিতে জমিতে এখন আগুন জ্বালিয়ে পঙ্গপাল ধরতে ব্যস্ত সে দেশের বাসিন্দারা। এক কেজি পঙ্গপাল ধরে দিলে ওই সংস্থার থেকে কৃষকরা পেয়ে যাচ্ছেন ৫০ কেনিয়ান সিলিং, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩৩.১৪ টাকা। কেনিয়ার মানুষদের কর্মসংস্থানের নতুন পথ দেখাচ্ছে এই পঙ্গপাল।