পাকিস্তানে ভেঙে ফেলা মন্দির ২ সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণ করে দেওয়ার নির্দেশ পাক সুপ্রিম কোর্টের

সম্প্রতি হিন্দু মন্দির ধ্বংসলীলা বিতর্কে আন্তর্জাতিক মহলে জোর সমালোচিত হয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়ার কড়ক অঞ্চলের তেরি গ্রামের শ্রী পরমহংস জি-এর সমাধিস্থল ও সংলগ্ন কৃষ্ণদ্বার মন্দির ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তানের মুসলিম ধর্মাবলম্বী মৌলবাদীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই অস্বস্তির মুখে পড়ে পাক প্রশাসন। চাপের মুখে পড়ে শেষ-মেষ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩১ জনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।

এবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকেও মামলার শুনানিতে খাইবার পাখতুনওয়ার সরকারকে উক্ত হিন্দু মন্দির দ্রুত সারাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হলো। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গুলজার আমেদ গত ৩০শে ডিসেম্বর মৌলবাদীদের হাতে হিন্দু তীর্থস্থান ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন। পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সাংসদ রমেশ কুমারের থেকে ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে পেরেই তিনি এই মামলা দায়ের করেছিলেন।

মঙ্গলবার অর্থাৎ ৫ই জানুয়ারি মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। এদিন পাক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শুনানি প্রদানের সময় পাখতুনওয়ার সরকার এবং আউকাফ দফতরকে অবিলম্বে তীর্থস্থান মেরামতির কাজ শুরু করতে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই কাজের অগ্রগতি সম্পর্কিত যাবতীয় রিপোর্ট পাকিস্তানের উচ্চ আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মন্দির সারাইয়ের যাবতীয় অর্থ মন্দির ধ্বংসকারীদের থেকেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের উচ্চ আদালত। শুধু তাই নয়, মন্দিরের ভিতর সন্দেহ ভাজন ব্যক্তির আনাগোনাও নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত এবং এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ পেয়েছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই নির্দেশ অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।