এই দেশে আত্মহত্যা মহামারীর রূপ নিয়েছে, একাকীত্ব মেটাতে নিয়োগ হলো মন্ত্রী

আধুনিক ইঁদুর দৌড়ের যুগে মন খুলে কথা বলার মতো মানুষের অত্যন্ত অভাব দেখা দিয়েছে। এই কর্মব্যস্ততার যুগে মানুষ যেন একে অপরের কথা শোনার সময়টুকুও পান না। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি উন্নত দেশই কমবেশি এই সমস্যার শিকার। শুধু মন খুলে কথা বলতে না পারার দরুন মানসিক অবসাদের প্রবণতা দিন প্রতিদিন বাড়ছে। মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে শেষমেশ বহু মানুষ নিজেদের জীবন শেষ করে ফেলার মত চরম সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলছেন।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে এবার জাপানে এক আলাদা মন্ত্রীবিভাগ গড়ে তোলা হলো। “মিনিস্টার অফ লোনলিনেস” অর্থাৎ জাপানের একাকিত্বের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন টেটসুশি সাকামোটো। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিককালে জাপানে আত্মহত্যার প্রবণতা অত্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষত করোনা পর্যায় থেকেই মানসিক অবসাদের সমস্যা বেড়েছে।

মানসিক অবসাদ, আত্মহত্যার প্রবণতাকে এক অন্যতম গুরুতর সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করেছে জাপান। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি উপায় খুঁজতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। জাপানের সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, আত্মহত্যার প্রবণতা ওই দেশে করোনার থেকেও মহামারির আকার ধারণ করেছে। ২০২০ সালে অক্টোবর মাসে করোনার দরুন সেই রাষ্ট্রের ১ হাজার ৭৬৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ওই মাসেই আত্মহত্যা করেছেন ২ হাজার ১৫৩ জন মানুষ। এই সংখ্যাটা ভাবাচ্ছে জাপানের প্রশাসনকে। করোনার কারণে কাজ হারিয়েছেন অনেকে, অনেকেই হারিয়েছেন কাছের মানুষকে। এভাবে ক্রমাগত হার স্বীকার করতে করতে মানসিক অবসাদের চরম পর্যায়ে পৌঁছে শেষমেষ চরম সিদ্ধান্তটিই নিয়ে ফেলেছেন জাপানের বাসিন্দারা। এই প্রবণতা কমাতে উপযুক্ত কাউন্সিলিং এবং চিকিৎসার পথে হাঁটছে জাপানের প্রশাসন।