বেশ কিছুদিন ধরে অনিদ্রায় ভুগছেন? এই কয়েকটি অভ্যেসে ভালো হবে ভালো ঘুম, জানুন

ইঁদুর দৌড়ে যাঁতাকলে পড়ে আমাদের মধ্যে অনেকেই শান্তি ভাবে জীবন যাপন করতে ভুলে গেছি। সকালে উঠে কাজের চিন্তা, সংসারের চাপ এবং বাচ্চা মানুষ করার চাপ,সবকিছু মিলিয়ে আমাদের মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে অনেকটাই। দেরি করে কাজ করার জন্য কমে যাচ্ছে ঘুমের পরিমাণ। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের সারা দিন কাটাতে হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে। তাই বেশিরভাগ সময়ে মোবাইল অথবা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকতে হয়। ফলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে ভীষণ ভাবে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে হজমের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ঘুমের অভাবে আমাদের শরীরে জমছে মেদ। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমরা। হৃদ রোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো কঠিন অসুখের সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের। তাই আজকে এই প্রতিবেদনে আপনাকে জানানো হবে যে, কিভাবে ভালো ঘুম হবে আপনার। কিছু কিছু বিষয় যদি আপনি মাথায় রাখতে পারেন তাহলে,অনিদ্রা জনিত রোগ আপনার অনেক দূর হয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী,একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সারাদিনে 8 ঘন্টা ঘুমানো দরকার। অন্যদিকে ছোট বাচ্চারা আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম দিতে পারে দিনে। পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই শরীরের বিকাশ ঘটবে। তবে রাতে যদি ঘুম অনুরাগে কফি খাবার অভ্যাস থাকে, তাহলে আজকেই সেটা বদলে ফেলুন। কফি হলো এমন একটি উদ্দীপক যা শরীরে প্রবেশ করার 6 ঘণ্টা পরেও কার্যকর থাকতে পারে। ক্যাফেইন জাতীয় কোনো পানীয় যদি আপনি খান বিকেল পাঁচটার পর, তাহলে আপনার ঘুম অনেকটাই পাতলা হয়ে যেতে পারে।

একাকীত্ব দূর করতে গিয়ে আমরা অনেকেই শুতে যাবার আগে সিনেমা দেখি ল্যাপটপে অথবা মোবাইলে। কিন্তু ঘুমানোর আগে ঘন্টার পর ঘন্টা এইভাবে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকা খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এইভাবে বেশি রাত করে ঘুমালে, তাড়াতাড়ি সকালে ওঠা যায় না।এছাড়াও অন্ধকার ঘরে মোবাইলের উজ্জ্বল আলো চোখের সমূহ ক্ষতি করে দেয়।তাই চেষ্টা করুন ঘুমোতে যাবার এক ঘন্টা আগে আপনার প্রিয় ফোনটি বন্ধ করে রাখতে।

ধূমপান শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক, একথা আমরা সকলেই জানি। নিকোটিন এমন একটি জিনিস, যা আমাদের শরীরকে সচেতন রাখতে সাহায্য করে। পরিশ্রম করতে সাহায্য করে। শরীরের যে কোন ক্লান্তি দূর করে দেয়। তাই ঘুমোতে যাবার আগে যদি সিগারেট পান করার অভ্যাস থাকে, তাহলে আজই পাল্টে ফেলুন সেটি। না হলে হার্ট অ্যাটাক অথবা অন্যান্য কঠিন রোগ হতে পারে আপনার।

শরীরচর্চা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো হলেও ঘুমের আগে তা একেবারেই উচিত নয়।ঘুমের আগে বেশিক্ষণ যোগ ব্যায়াম করলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। ঘুমের আগে বেশিক্ষণ ব্যায়াম করলে শরীরের তাপমাত্রা এবং কার্ডিওভাসকুলার ক্রিয়া গুলির বৃদ্ধি পায়। ফলে নৈশ ভোজের পর কোন সময় ব্যায়াম করবেন না। হালকা মেডিটেশন অথবা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।

রাতে অল্প হলেও খাবার খাওয়ার অভ্যাস করবেন। অনেকেই তাড়াতাড়ি খাওয়ার খেয়ে ফেলেন। এর ফলে ঘুমাতে যাবার আগে আবার খিদে পেয়ে যায়। ফলে ভালো করে ঘুম হয় না। এছাড়া ঘুমের আগে ভারী খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। রাতের খাবারের পর আমাদের কোনো শারীরিক পরিশ্রম না হবার কারণে সেই খাবার হজম হতে অনেক সময় লেগে যায়। তাই হালকা খাবার খাওয়াই উচিত।