এতো বড়ো শাস্তি! অফিস টাইম শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে বেরিয়েছিলেন, বেতন কাটা গেলো ৩ মাসের

জাপান অতি উন্নত একটি দেশ। নিয়মানুবর্তিতা এবং শৃঙ্খলা পরায়নের দিক থেকে সে অন্যান্য দেশের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। তাই বারবার বিপদের সম্মুখীন হলেও জাপান খুব তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিতে পারে। তবে কর্মোজগতের নিয়ম কানুন এতটাই কঠিন যে তা মাঝে মাঝে মানবিকতাবোধ হারিয়ে ফেলে।সম্প্রতি এমন একটি খবর আমাদের সকলের সামনে উঠে এসেছে। জাপানে প্রত্যেকটি অফিসে ডিউটি করতে হয় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। সেখানে একজন এদিক-ওদিক হবার সম্ভাবনা নেই।কর্মচারীদের কোন সামান্য ভুল হলেও বড়োসড়ো শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় তাদের। শাস্তির পরিমাণ এতটাই বৃহৎ হয়ে যায় যে, মনে হয় অপরাধের শাস্তির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গেলো।

তবে জাপানিরা সেই দেশের নিয়মকানুনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। অথবা বলা ভালো মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।নিয়মকানুন না মানার যে শাস্তি কতটা বড় হতে পারে তার একটি দৃষ্টান্ত কিছুদিন আগেই দেখা গেল। একজন ৫৯ বছরের কর্মচারী মাত্র ২ মিনিট আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যাবার ফলে কর্তৃপক্ষ তার তিন মাসের বেতন কেটে নিয়েছে। সম্প্রতি এমনই একটি অমানবিক শাস্তির কথা শুনতে পাওয়া গেছে জাপান থেকে।

অফিস থেকে তার ছুটি হবার কথা ছিল পাঁচটা পনেরোতে। কিন্তু বাড়ি ফেরার বাস বিকেল ৫ টা ১৭ মিনিটে থাকার কারণে তিনি দুই মিনিট আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যান। ঠিক এই অপরাধে তাকে তিন মাসের জন্য বিনা বেতনে পরিশ্রম করার শাস্তি প্রদান দিয়েছেন কম্পানি।

তবে এই ঘটনার পর একটি কথা মনে পড়ে গেল। কোন এক ইংরেজ লেখক লিখেছিলেন যে, নিয়ম লেখা থাকে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে। কিন্তু মানুষের অসুবিধা হলে সেই নিয়ম মাঝে মাঝে লংঘন করলে কোন দোষ হয় না। কিন্তু এমন ভাবে অনিয়ম মানা উচিত নয় যার ফলে মানুষের মানবিকতাবোধ হারিয়ে যায়। জাপান নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে আমাদের থেকে কিন্তু মানবিকতার দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ভারতের থেকে।