DA মামলায় ধাক্কা খেলো রাজ্য, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মেটাতে হবে বকেয়া, নির্দেশ দিলো SAT

সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মামলা নিয়ে অনেকদিন ধরেই রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন বিরোধীরা। তবে রাজ্যের তরফ এ বিষয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে। সম্প্রতি, স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালের তরফ থেকে রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে পরিস্থিতিই হোক না কেন সরকারি কর্মচারীদের তাদের প্রাপ্য মহার্ঘভাতা দিতেই হবে রাজ্য সরকারকে। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালের তরফ থেকে তরফ থেকে সম্প্রতি রাজ্যকে একটি নির্দেশ পাঠিয়েছে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে, চলতি বছরের ১৯শে ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের তাদের প্রাপ্য মিটিয়ে দিতে হবে। স্যাটের এই নির্দেশে কার্যত বেজায় বিপাকে পড়েছে রাজ্য সরকার। স্যাটের তরফ থেকে কার্যত রাজ্যকে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়াতে আগামী দেড় বছরের জন্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা দিতে অস্বীকার করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু জানুয়ারি মাসের শুরুতেই কেন্দ্র থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই সরকারি কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য ডিএ এর দাবি তোলেন রাজ্য সরকারের কাছে। রাজ্যের বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের তরফ থেকে দাবি করা হয়, কেন্দ্রের ডিএ সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এই মুহূর্তে ২১ শতাংশে পৌঁছেছে। এই টাকা কোনোভাবেই বকেয়া রাখা যাবে না বলে দাবি তুলতে থাকেন তারা।

উল্লেখ্য, স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালেরতরফ থেকে রাজ্যকে আগেই কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ মানতে নারাজ হওয়ায় রাজ্যের সরকারি কর্মচারী সংগঠনের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। এই মামলায় ২০০৬ সাল থেকে বকেয়া যাবতীয় পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে, ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই আগামী ছয় মাসের মধ্যেই রাজ্য সরকারের মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য আদালতে পাল্টা রিভিউ পিটিশন দাখিল করে। তবে রাজ্যের সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে আগামী ১৯শে ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজ্যকে বকেয়া প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।