নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে কেঁদে ভাসালেন সোনালী, ভেঙে পড়েছেন আরাবুল, দেখুন তালিকা

একুশের নির্বাচনী লড়াইয়ের যোদ্ধা হিসেবে তৃণমূল শিবিরে উঠে এসেছে বহু নতুন মুখ। বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বহু রদবদল হয়েছে। নিজের কেন্দ্রে টিকিট পাননি অনেকেই। বেশ কিছু কিছু জায়গায় সম্পূর্ণ নতুন সদস্যকে প্রার্থী করা হয়েছে। কেউ আবার নিজের কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে অন্য কেন্দ্রে বদলি হয়েছেন! দলের পুরাতন সদস্যরা তা মানবেন কেন? সব মিলিয়ে নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা পেশ হতে না হতেই দলের অভ্যন্তরে রীতিমতো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

দলের এমন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন ক্ষুব্ধ নেতা নেত্রীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ 24 পরগনার সাতগাছিয়ার বিধায়ক তথা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ। পরপর চারবার দলের হয়ে বিধায়ক হিসেবে জিতেছেন তিনি। পঞ্চম বারে তাকে আর প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেওয়া হলো না। দলের এই সিদ্ধান্তে হতাশার দরুন রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।

তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তার ক্ষোভ অবশ্য শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ পায়নি। দলের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে নিজের পার্টি অফিসেই ভাঙচুর চালিয়েছেন তিনি। তার অনুগামীরাও রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন। ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা এবং বাসন্তীর বিধায়ক গোবিন্দ্রচন্দ্র নস্করও দলের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সিঙ্গুরের বর্তমান বিধায়ক তথা মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যও বাদ পড়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে। তার বদলে বেচারাম মান্না জায়গা পেয়েছেন প্রার্থী হিসেবে। এতে ক্ষুব্ধ মাস্টারমশাই জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো নির্দেশ দিলেও তিনি বেচারাম মান্নার হয়ে প্রচার চালাতে পারবেন না। নলহাটির মইনুদ্দিন শামস অবশ্য প্রার্থী হতে না পেরে দলই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সব মিলিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে রাজনীতি জুড়ে এখন বেশ তরজা চলছে।