খানিকটা স্বস্তি, ভারতীয়দের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে সাড়া দিলো আমেরিকা

আমেরিকায় যে ভারতীয়রা কাজ করছেন, তাঁদের জন্য সুখবর। মার্কিন মুলুক থেকে কাজ করার জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার আইনকানুন কিছুটা শিথিল করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন দফতরের তরফে শুক্রবার এ কথা জানানো হয়েছে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জন্য আরও ৬০ দিন সময় দেওয়া হল। যাঁরা আমেরিকায় পাকাপাকি ভাবে থাকার উদ্দেশে গ্রিন কার্ড পেতে চান, তাঁরাও আবেদন জানানোর জন্য বাড়তি ২ মাস সময় পাবেন। এইচওয়ান-বি ভিসা নিয়ে আমেরিকায় কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

আমেরিকায় থেকে কাজ করার জন্য কেন এইচ-ওয়ানবি ভিসার মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন বা কেন গ্রিন কার্ডের আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো দরকার, তা জানানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন আগেই আবেদনকারীদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। করোনা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সেই সময়সীমা এগিয়ে নিয়ে আসারও তোড়জোড় শুরু হয়েছিল।

এর ফলে এইচ-ওয়ানবি ভিসা নিয়ে আমেরিকায় যারা কর্মরত, তাঁদের অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। কারণ জুন শেষ হলেই তাঁদের দেশে ফিরে যেতে হত। সে ক্ষেত্রে যাঁরা স্কলারশিপ বা অন্য কোনও আর্থিক অনুদান নিয়ে মার্কিন মুলুকে কাজ করছিলেন বা গবেষণা করছিলেন, তাঁদের দেশে ফিরে গিয়ে বা তার আগেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই অর্থ শোধ করতে হত।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদন গৃহীত হওয়ার জন্য নথিপত্র জমা দিতে এ বার আরও ২ মাস সময় পাওয়া যাবে। ওই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীরা ‘আই-২৯০বি’ ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। ‘এন-১৪’ সহ নানা ধরনের জরুরি ফর্মও পূরণ করতে পারবেন। আরও জানানো হয়েছে, ওই ২ মাসের মধ্যে অ্যাপিল বা মোশনের নোটিসও জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়াও ‘নোটস অফ ইনটেন্ট টু ডিনাই’, ‘নোটিশ অফ ইনটেন্ট টু রিভোক’, ‘নোটিশ অফ ইনটেন্ট টু রেসিন্ড’ এবং ‘নোটিশ অফ ইনটেন্ট টু টার্মিনেট রিজিওনাল ইনভেস্টমেন্ট সেন্টার্স’ এর আবেদনও জানাতে পারবেন।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাতে কর্মরতদের সংখ্যা না কমে, তাঁদের সম্প্রদায়গত ভারসাম্যে খুব তারতম্য না ঘটে, তারই চেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতর। যাঁরা অভিবাসনের জন্য সরকারি সুযোগসুবিধা পেতে চান, তাঁদের কথাও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে। এই বিবৃতিতেই ইঙ্গিত মিলেছে, ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদনের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের আপাতত আপত্তি নেই।