মহানগর কলকাতার সবথেকে ভয়ানক কয়েকটি জায়গা, যেখানে এখনো বিরাজ করে অশরীরী আত্মা

ভূতের গল্প শুনতে আমরা সকলেই ভালোবাসি। ভূত নিয়ে তৈরি সিনেমা দেখতে আমরা ভালোবাসি। তবে সামনে যদি সাক্ষাৎ তিনি এসে পড়েন, তাহলে কি হবে বলা যাচ্ছে না। তবে গা ছমছমে অভিজ্ঞতা যদি করতে হয় তাহলে ঘুরে আসতে হবে আপনার প্রিয় শহর কলকাতার পাঁচটি বিখ্যাত ভুতুড়ে জায়গায়। চলুন দেখে নিন সেই বিখ্যাত জায়গা যেখানে বাস করেন তেনারা।

ন্যাশনাল লাইব্রেরী: কলকাতা ন্যাশনাল লাইব্রেরি কথা আমরা সকলেই জানি। বহু পুরনো দিনের স্থাপত্য এটি। তবে শুধুমাত্র পুরনো স্থাপত্য নয়, বিভিন্ন ভুতুড়ে ক্রিয়া-কলাপ এর জন্য বিখ্যাত এই ন্যাশনাল লাইব্রেরী। এখানকার পড়ুয়ারা বহু সময় স্বীকার করেছেন যে পড়ার সময় তাদের ঘাড়ে অদৃশ্য কারণে তারা উপলব্ধি করেছেন। শুধুমাত্র তাই নয়, ভরদুপুরে অশরীরী পদচারণা শব্দও পেয়েছেন কেউ কেউ। এখানকার কর্মরত লোকেরাও নানা ভুতুড়ে ঘটনা সাক্ষী থেকে যেন অনেকবার। তারা মনে করেন যে, এখন এই লাইব্রেরীর ভেতরে লর্ড মেডকাফের স্ত্রী ঘুরে বেড়ান।

মল্লিক ঘাট: হাওড়া ব্রিজের তলায় ফুল বাজারের নিকটে অবস্থিত এই মল্লিক ঘাট। এখানকার পাশ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা মানুষদের অধিকাংশ জানিয়েছেন যে, এই ঘাটে প্রতিদিন কিছু না কিছু ভুতুড়ে ঘটনা ঘটতে থাকে। অনেকেই দাবি করেছেন যে, এই মল্লিক ঘাটে সাদা কাপড় পড়ে কোন মহিলা শুরু করে কাঁদতে থাকে। বহু মানুষের ধারণা,যে সকল মানুষেরা গঙ্গার জলে ডুবে আত্মহত্যা করেন তাদের অতৃপ্ত আত্মা এখানে বিচরণ করে বেড়ায়।

নিমতলা মহাশ্মশান: কলকাতার এই মহাশ্মশানের নাম আমরা সকলেই জানি।বহু না আমি দামি মানুষদের এই শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এখানেও নাকি অনেক অশরীরী আত্মা বিচরণ করে থাকে। বিশেষ করে অমাবস্যার রাতে নাকি বল কি ঘটনা ঘটতে থাকে এই নিমতলা মহাশ্মশানে।

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন: কলকাতার ভুতুড়ে স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম হলো রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন। বহু মানুষ মেট্রো স্টেশনের ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন, তার বেশিরভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনে। রাতের দিকে যারা শেষ মেট্রোতে চড়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন, তাদের মধ্যে অনেকেই সাক্ষী হয়েছেন নানা ভুতুড়ে ঘটনার।তারা এখানে নানা রকম ছায়ামূর্তি কে স্টেশনে ঘুরতে দেখেছেন।

লোয়ার সার্কুলার রোড সেমীটারি: এই জায়গাটি আসলে একটি কবরস্থান। এখানে স্যার উইলিয়াম হে ম্যাকনতেন কে কবর দেয়া হয়েছিল। ইনি ইঙ্গ আফগান যুদ্ধে মারা গেছিলেন। তার কাটা ছেঁড়া দেহটি আফগানিস্তান থেকে নিয়ে সেখানেই কবর দিয়েছেন তার স্ত্রী। কথিত আছে যে, যদি কোন কবরস্থানের আশেপাশে কেউ যায়,তাহলে তার আত্মা রাগান্বিত হয়ে যায় এবং কবরটিকে ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ ভয়ঙ্কর রূপে কাঁপতে থাকে।