যৌ’ন হেনস্থা হলেই সিগন্যাল দেবে জুতো, মহিলাদের সুরক্ষায় যুগান্তকারী আবিষ্কার বাংলার শিক্ষকের

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতবর্ষের মতো দেশ যেখানে প্রতি ১৬ মিনিট অন্তর একজন মহিলাকে ধর্ষিতা হতে হয়, প্রশাসন যেখানে নির্যাতিতাকে সুরক্ষা প্রদান করতে ব্যর্থ, সেখানে সাধারণ মানুষকেই তাদের মা-বোনেদের সম্মান বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসতে হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরার একটি পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষক সম্প্রতি সেই গুরু দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। আর এই কাজে তার সঙ্গী হয়েছে প্রযুক্তি।

গুসকরার গোবিন্দপুর সেফালি মেমোরিয়াল পলিটেকনিক কলেজের ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট সৈয়দ মোশারফ হোসেন সম্প্রতি এমন এক জুতা আবিষ্কার করেছেন, যা আক্রমণের মুহূর্তে যে কোনো মহিলাকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। এই বিশেষ জুতোতে রয়েছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস। রয়েছে একটি বিশেষ সুইচ। কোনো মহিলা আক্রমণের মুখে পড়ে যদি এই সুইচ অন করে দেন তাহলে নির্ধারিত পাঁচটি নম্বরে একসাথে তার বিপদ বার্তা পৌঁছে যাবে।

শুধু তাই নয়, আক্রমণের মুহূর্তে দুষ্কৃতীকে প্রতিহত করতেও সক্ষম মোশারফের আবিষ্কৃত জুতো। এই জুতোর মাধ্যমে প্রতি দুই সেকেন্ড অন্তর আক্রমণকারীর শরীরের প্রায় ১২০০ ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে। যার ফলে দুষ্কৃতী মহিলার ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারবে না। তার সাথেই জুতার মধ্যে রয়েছে আধুনিক জিপিএস পদ্ধতি। যার মাধ্যমে প্রতি ৩০ সেকেন্ড অন্তর নির্ধারিত পাঁচটি নম্বরে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ গিয়ে পৌঁছবে।

মোশারফ তার ছাত্র জীবনে হুগলির ব্যাণ্ডেলের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বি-টেক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য ইতিমধ্যেই তিনি ডবলু বি এস সি এস টিতে পেটেন্ট এর দাবি জানিয়েছেন। বিপদের মূহুর্তে এই জুতো কতটা কার্যকরী, তা তিনি তার বোনের মাধ্যমে পরীক্ষাও করে নিয়েছেন।