৩৬ ঘন্টা আগেই মৃত্যু, শর্বরী দত্তের ময়নাতদন্তে উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

বৃহস্পতিবার রাতে, কলকাতার ব্রডস্ট্রিটের বাড়ির শৌচাগার থেকে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার করা হয় জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্তের দেহ। সম্প্রতি, তার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয়েছে তার। খুনের তত্ব পুরোপুরি উড়িয়েই দেওয়া হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের সময় থেকে অন্তত পক্ষে ৩৬ ঘন্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে শর্বরী দত্তের।

শুক্রবার দুপুরে পোস্টমর্টেমের জন্য শর্বরী দেবীর দেহ নীলরতন সরকার হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে পোস্টমর্টেম চলেছে তার। এরপরে জানানো হয়, মৃত্যুর কারণ সেরিব্রাল স্ট্রোক। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যু হয়েছে তার। তবে দেহ উদ্ধার হয়েছে রাত ১১ টার কিছু পরে। পরিবারের লোকেরাই দেহ উদ্ধার করেন। এরপর তার পারিবারিক চিকিৎসককে খবর দেওয়া হলে তিনি শর্বরী দেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে পরিবারের তরফ থেকে অবশ্য স্থানীয় কড়েয়া থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর রিপোর্ট লেখানো হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী অবশ্য মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলেই মনে করেছেন চিকিৎসকেরা। তবে, শর্বরী দেবীর নিকটজনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, শেষের দিকে তার পূত্র এবং পুত্রবধূর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। এমনকি মৃত্যু প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে সরাসরি তার পরিবারের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রের খবর, ছেলের সাথে ব্র্যান্ড নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত হয় শর্বরী দেবীর। শর্বরী দেবীর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের সাথে সম্পর্কের অবনমনের কারণ মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃদ্ধা। সম্পত্তি এবং সংস্থার অংশীদারিত্ব নিয়ে ছেলের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল তার। শেষমেষ ২০১৭ সালে নিজের নতুন ব্র্যান্ড খুলেছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এমনই, দীর্ঘক্ষন ধরে শৌচাগারে তার দেহ পড়ে থাকলেও পরিবারের লোক তা টের পেলেন না।