আর মাত্র ১৩০ মিটার, কয়েকদিনেই মাটির নীচে মেট্রোর টানেল পৌঁছবে শিয়ালদহ

সুড়ঙ্গ পথে ধীরে ধীরে শিয়ালদা মেট্রো স্টেশনের দিকে এগিয়ে আসছে টানেল বোরিং মেশিন “উর্বি”। মাঝে আর মাত্র ১৩০ মিটারের দূরত্ব। এই দূরত্ব আগামী দশ দিনের মধ্যেই অতিক্রম করে যাবে “উর্বি”। শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশনে পৌঁছানোর পর তার কাজ হবে, বউবাজারের দিকে এগোনো। কারণ, মেট্রোর জন্য সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ করতে গিয়ে বউবাজার বিপর্যয়ের ফলে অপর একটি টানেল বোরিং মেশিন “চান্ডি” বউবাজারেই মাটির তলাতে আটকে থেকে গেছে।

তাই নিজের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পর অর্থাৎ শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছানোর পর, বৌ বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে “চান্ডি”র অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে “উর্বি”। মেট্রো কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, প্রতিদিন মাটির তলা দিয়ে প্রায় ১৫ মিটার পথ অতিক্রম করছে “উর্বি”। কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে করপোরেশন লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে যা যথেষ্টই আশাপ্রদ। ইঞ্জিনিয়াররা জানাচ্ছেন, সারা কলকাতাজুড়ে মেট্রো পরিষেবা চালু করার জন্য মাটির তলায় দুটি সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ প্রয়োজন।

একটি সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণের ভার পড়েছে “উর্বি”র উপর। অপরটির দায়িত্বে ছিল “চান্ডি”। তবে মাটির তলায় পরিকল্পনা ছাড়াই সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণ করতে গিয়ে ঘটে যায় বউবাজার বিপর্যয়। ওই এলাকার বেশ কয়েকটি পুরনো বাড়ি ধ্বসে পড়ে যায়। এরপর থেকে “চান্ডি” ওই বউবাজারেই আটকে পড়ে রয়েছে। এরপর করোনা মহামারীর প্রকোপে দীর্ঘদিন ধরে সুড়ঙ্গের কাজ বন্ধ রাখা হয়। আনলক পর্বে আবারো কাজ শুরু করেছে “উর্বি”। “চান্ডি”র অসম্পূর্ণ কাজ এবার “উর্বি”র মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে মাটির তলা থেকে “চান্ডি”কে কিভাবে উদ্ধার করা হবে সেই নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। ওই এলাকায় এক বিশাল চৌবাচ্চা বানানো হয়েছে। চৌবাচ্চার চারপাশে রয়েছে লোহার দেওয়াল। এই চৌবাচ্চার মাধ্যমে “চান্ডি”র যন্ত্রাংশ খন্ড খন্ড করে খুলে নিয়ে উপরে তোলা হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, এই কাজ শেষ হতে এখনো প্রায় এক বছর সময় লাগবে। এদিকে সুড়ঙ্গের ঠিক পাশেই রয়েছে বিদ্যাপতি সেতু। আবারো যাতে কোনো বিপর্যয় না ঘটে যায়, সেজন্য সেতুর ওপর দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল করছে।