মঙ্গল গ্রহে আরও তিনটি হ্রদের সন্ধান পেলেন গবেষকরা, ব্যাপক উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা

মঙ্গল গ্রহে আরও তিনটি নতুন হ্রদের সন্ধান দিলেন গবেষকেরা। উল্লেখ্য, দুই বছর আগেই মঙ্গল গ্রহে জল এর সন্ধান দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সে সময় তারা তাদের গবেষণা কালীন ওই গ্রহে একটি বড় লেক খুঁজে পেয়েছিলেন। এরপর মঙ্গল গ্রহে জলের উপস্থিতি সম্পর্কে আরও গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। গত মঙ্গলবার তারা জানান, দুই বছর আগে লালগ্রহে যে বিশাল লেকের সন্ধান পাওয়া গেছিল তার জল লবণাক্ত।

এবার বিজ্ঞানীরা আবারো মঙ্গল গ্রহে তিনটি লেকের উপস্থিতির কথা জানালেন। সোমবার, নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে গবেষকদের মঙ্গল গ্রহ সংক্রান্ত গবেষণার রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। সেখান থেকে জানা গেল, বড় লবণাক্ত হ্রদ ছাড়াও মঙ্গল গ্রহে আরো তিনটি হ্রদ রয়েছে। সেখানে আরও জানানো হয়েছে, মঙ্গল গ্রহের লেকগুলি সবই বরফাবৃত।

রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহ বিজ্ঞানী এলিনা পেটিনেল্লি জানিয়েছেন, বড় লবণাক্ত হ্রদের পাশেই রয়েছে আরও তিনটি ছোট হ্রদ। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই চারটি লেক মঙ্গল গ্রহের প্রায় ৭৫ হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে। এরমধ্যে মাঝের হ্রদটিই প্রায় ৩০ কিলোমিটার বিস্তৃত। একে ঘিরে রয়েছে বাকি তিনটি ছোট ছোট হ্রদ। উল্লেখ্য, বর্তমানে মার্শ এক্সপ্রেস নামক একটি মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে বিচরণ করছে।

এই মহাকাশযানের মধ্যে মারসিস নামক একটি রেডার হয়েছে। এই রেডারের মাধ্যমেই মঙ্গল গ্রহের জলাধার উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের শিক্ষক রবার্তো ওরোসেই এর নেতৃত্বে এই গবেষণা চালানো হয়। মঙ্গল গ্রহে প্রাণ আছে কি নেই, সে সম্পর্কে বহু দিন ধরেই নানা জল্পনা চলছে। তবে বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রাণের সৃষ্টির জন্য প্রথমেই জল থাকা আবশ্যিক। মঙ্গল গ্রহে যেহেতু জলের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাই বিজ্ঞানীদের আসা মঙ্গলে প্রাণ থাকলেও থাকতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল প্রাণ ধারণের উপযুক্ত নয়। তাই এই গ্রহে যদি প্রাণ থেকেও থাকে তাহলে তা রয়েছে জলের তলায়। জলের উপরিভাগে প্রাণ থাকা সম্ভব নয়। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা মঙ্গলের জলাধারে জলের তাপমাত্রা -১০ থেকে -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এত নিম্ন উষ্ণতাতেও সেখানে জল তরল অবস্থায় আছে তার কারণ সম্ভবত জলে প্রচুর পরিমাণে লবণের উপস্থিতি বলেই মনে করছেন তারা। এত কম তাপমাত্রার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে লবণের উপস্থিতির মধ্যে কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বলেই মত প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা।