রিলায়েন্স গ্রুপের ছোট ভাই অনিল আম্বানি, রাজা থেকে ফকির হওয়া, অনেকটাই গল্পের মতো

ভারতবর্ষের প্রথম ১০ জন ধনীর মধ্যে আমরা বিরু ভাই আম্বানির কথা জানি। তার এতটাই অর্থ ছিল যে, তিনি যে কোনো সময় যে কোনো স্বপ্ন পূরণ করতে পারতেন তার। তবে তার এই সফলতা একদিনে আসেনি।বহুদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি আস্তে আস্তে সফলতা শিখরে পৌঁছতে পেরেছেন।তার দুই ছেলে অনিল আম্বানি এবং মুকেশ আম্বানি উত্তরাধিকারসূত্রে তার সমস্ত সম্পত্তির মালিক ছিলেন। বাবা বেঁচে থাকাকালীন সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ বাধে দুই ভাইয়ের।সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিরু ভাই আম্বানি তার দুই ছেলের মধ্যে তার সম্পত্তি সমান ভাগে ভাগ করে দেন।

নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন দুই ভাই। মুকেশ এবং অনিলের মধ্যেঅনিল প্রথমে এতটাই সফলতা অর্জন করতে শুরু করেছিল যে সকলে ভেবেছিল খুব তাড়াতাড়ি তিনি বিশ্বের সবথেকে বেশি ধনী মানুষের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। একের পর এক বিজনেস বাড়াতে শুরু করেছিলেন অনিল। কিন্তু তার এই অধৈর্য তা একদিন তার জীবনে কাল হয়ে এলো। এরপর তার জীবনে এলো দুটি ধাক্কা।

প্রথমত: তার মোবাইল সংস্থা উন্নত মানের নেট ব্যবস্থা নিতে পারছিল না জনগণকে, যেখানে অন্যান্য মোবাইল সংস্থা থ্রিজি এবং ফোর জির মত নেট কানেকশন দিয়ে জনগণকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছিল।

দ্বিতীয়তঃ গ্যাস ইউটিলাইজেশন পলিসি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট মুকেশ আম্বানির পক্ষে রায় দেন।

এরপর যখন ২০১৫ সালে মুকেশ আম্বানি জিও লঞ্চ করে, তখন পুরোপুরি অনিল আম্বানির ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যায়। এরপরেও আস্তে আস্তে অনিল আম্বানি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, কিন্তু কোনভাবেই তার কোনো চেষ্টা সফল হয় না। অবশেষে তিনি ইয়েস ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করেছিলেন, যেটা তিনি শোধ করতে পারেননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে তিনি তার বহুকষ্টে দাঁড় করানো সংস্থা রিলায়েন্স বিক্রি করে দেন।এইভাবে আস্তে আস্তে সব দিক থেকে অনিল আম্বানি ধ্বংস হয়ে গিয়ে একেবারেই সাধারণ মানুষের পরিণত হয়েছেন।