মৃত্যু মিছিল রাজ্যে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় রেকর্ড মৃত্যু বাংলায়, লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণও

কতদিন আর বাড়িতে বসে থাকা যায় এভাবে? পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে মরিয়া সকলেই। কিছু টাকা রোজগার করার জন্য নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন সকলেই রাস্তায়। আটই জুন থেকে সমস্ত সরকারি বেসরকারি সংস্থা খুলে যাবে। ইতিমধ্যেই খুলে গেছে বহু বেসরকারি সংস্থা। ঠিকমতো পৌঁছতে না পারলে থাকবে না চাকরি। তাই সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ভিড় বাসে উঠে পড়তে হচ্ছে। যতগুলি সিট কতজন যাত্রী এই নিয়ম মানতে পারছেন না অনেকেই।

নিয়ম মানতে গেলে এক ঘন্টা থেকে দু ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরেই পৌঁছতে হচ্ছে অফিসে। মুখে মাক্স, হাতের হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকা সত্ত্বেও সামাজিক দূরত্ব না মেনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের আশংকা বেড়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য মরিয়া রাজ্যবাসীর লকডাউন উপেক্ষা করার জন্যই গত কয়েক দিনের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে শনিবার নতুন রেকর্ড করল রাজ্য। স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৩৫। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় মৃত ১৭ জন, যা এখনো পর্যন্ত একদিনে সর্বাধিক।

এক লাফে অনেকটা সংক্রামক ব্যা যাওয়ায় মোর সংক্রমনের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ১৩৭ জন । যাদের মধ্যে অ্যাক্টিভ কেস ৪ হাজার ২৭৩ জন। বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই গবেষণা করে জানিয়েছেন যে লকডাউন একবার সম্পূর্ণ পরিমাণে উঠে গেলে হু হু করে বাড়াবে সংক্রমনের সংখ্যা। আগে থেকেই বলা হয়েছিল জুন মাস থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ক্ষরণ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাবে বহুগুণ। এমনই হয়েছিল আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, চীনের সাথে।

জুন মাসেই এমনভাবেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াবে যে প্রতিদিন আক্রান্ত হবে ১৫ হাজার মানুষ। এই ভবিষ্যৎবাণী যে সত্যি হতে চলেছে তা আস্তে আস্তে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু লকডাউন না তুলে দিলে বহু মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারাবে এবং বহু মানুষ অনাহারে মারা যাবে। তাই কর্নার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে নিয়ে লড়াই করে যেতে হবে এমনই মনে করছেন প্রশাসন।