জ্বালানিতে রেকর্ড পরিমাণ শুল্ক আদায়, কেন্দ্রের রাজস্ব উপচে পড়লো, বৃদ্ধি পেলো ৪৮ শতাংশ

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে জিএসটি আদায় বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে সরকার। কিন্তু সম্প্রতি একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে জ্বালানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করে গত ৮ মাসের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ৪৮ শতাংশ বেশী শুল্ক আদায় করেছেন। কন্ট্রোলার জেনারেল অফ একাউন্টস এর তরফ থেকে জানা গেছে,গত বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সরকার রাজস্ব আদায় করেছে এক লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৯ এই সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১,৩২,৮৯৯ কোটি টাকা। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না এবছরের জ্বালানির বিক্রির পরিমাণ কমেছে অনেকটাই।

তবে রিপোর্টে এটাও জানা যাচ্ছে গত বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাসে ডিজেল বিক্রির পরিমাণ কমেছে ১ কোটি টনের মতো, এই নিয়ে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং ও অ্যানালিসিস সেল। ৪ কোটি ৪৯ লক্ষ টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে আর্থিক বছরে। কিন্তু ২০১৯ সালে সেই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৫৪ লক্ষ। তাহলে বোঝা যাচ্ছে একই হারে এই জ্বালানি বিক্রির পরিমাণ কমেছে , যার একমাত্র কারণ করোনা।

কেবলমাত্র ডিজেল-পেট্রোল জ্বালানির ওপরেই কেন্দ্রের জিএসটি লাগু হয় না, তবে সরকার এই জ্বালানির উপরে আলাদা ভ্যাট কর আদায় করেন। কত বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন ১ ব্যারেল তেলের দাম কুড়ি ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল সেখানেই কেন্দ্রীয় সরকার ডিজেল ও পেট্রোল লিটার প্রতি ১৩ থেকে ১৩ টাকা শুল্ক বাড়িয়েছিল। আর সেই কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও ভারতের বাজারে তা কমেনি।

কোন গ্রাহক যদি পেট্রোল ডিজেল ক্রয় করে তখন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্যাট মিলিয়ে খুচরো দামের দুই-তৃতীয়াংশ কর দিতে হয়। গতকাল রবিবার ইন্ডিয়ান অয়েল এর পেট্রলপাম গুলোতে কলকাতায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ছিল ৮৬.১৫ টাকা, ৭৮.৪৭ টাকা। ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানির প্রতি শুল্ক ২ টাকা শুল্ক কমায় কিন্তু তার ঠিক দুই বছরের মধ্যেই ফের ২ টাকা শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। গতবছর আবার সেখানেই ৩ টাকা শুল্ক বৃদ্ধি করে। এরপরে মে মাসে সরকার লিটার প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের ১০ টাকা ও ১৩ টাকা শুল্ক বৃদ্ধি করে।