টিভিতে দেখেছে “রামায়ণ”, সিরিয়াল দেখেই সম্পূর্ন রাম কাহিনী লিখে তাক লাগালো ১০ বছরের বালক

লকডাউন আমাদের শিখিয়েছে অনেক কিছুই। দীর্ঘ লকডাউনে দূরদর্শনে দেখানো হয়েছিল গত শতাব্দী আটের দশকের বিভিন্ন ধারাবাহিক। আরো একবার বাঙালির ঘরে ঘরে তথা ভারতবাসীর ঘরে ঘরে শুনতে পাওয়া গিয়েছিল রামানন্দ সাগরের রামায়ণ। লকডাউনে থাকাকালীন গোটা দেশ যখন ঘরবন্দি, তখনই আরো একবার নতুন রেকর্ড করে ফেলল এই ক্লাসিক সিরিয়াল। সন্তানদের কাছে আরেকবার নিজেদের ছোটবেলার কথা বলতে পারলেন বড়রা।

ঘরে ঘরে রাম রাবণের যুদ্ধ দেখার জন্য আরো একবার জমে যায় ভিড়। তবে এরই মধ্যে উড়িষ্যার একজন 10 বছরের খুদে, শুধুমাত্র সিরিয়াল দেখেই ক্ষান্ত হয়নি, সিরিয়াল দেখে দেখে লিখে ফেলল আস্ত একটি রামায়ণ। মহাকাব্য রামায়নের টেলি সম্প্রচার তার মনে এমন ভাবে প্রভাব ফেলেছিল যে, সে নিজেই শিশুদের উপযোগী একটি রামায়ণ লিখে ফেলল।

আয়ুস নামে এই ছোট ছেলেটি তার লেখায় রামায়ণের নাম দিয়েছে পিলাকা রামায়ণ। তার লেখা এই ছোট্ট রামায়ণ ১০৪ টি পাতা জুড়ে রয়েছে। তবে হঠাৎ হঠাৎ কেন রামায়ণ লিখে ফেলার ইচ্ছে হলো তার, এই বিষয়ে আয়ুশ বলেছে যে, মার্চ মাসে যখন লকডাউন শুরু হলো, তখন টিভিতে রামায়ণ দেখানো হচ্ছিল। আমার বড় জেঠু আমাকে বলেছিল যে, এটি যেন আমি মন দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। পরে তিনি আমায় পরামর্শ দেন, রামায়ণ দেখে লিখে রাখতে।

প্রথম এপিসোড দেখলেই ডাইরির পাতায় আমি লিখতে শুরু করি। তারপর সেটি আস্তে আস্তে বড় হয়ে যায়। কোন ঘটনাই বাদ দিই নি আমি। লক্ষণ সীতা কে নিয়ে বনবাস, রাবনের সীতা হরণ,রাবণ বধ থেকে শুরু করে রামের প্রত্যাবর্তন, সবকিছুই লেখা আছে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। অবশেষে বই আকারে প্রকাশিত হতে চলেছে, পিলাকা রামায়ণ। ক্লাস ফোরের আয়ুস এর যেন বিশ্বাস হচ্ছে না, কার লেখা রামায়ণ বই এর আকারে বেরিয়ে গেছে। ছোট আয়ুশ সকলকে জানাল, সকলেরই উচিত কিছু না কিছু লেখার অভ্যাস রাখা। এই সৃজনশীলতা সবাই কে নতুন ভাবে এগোতে সাহায্য করবে।