হাতিদের দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই দিতে নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে রেল, মৃত্যু এড়ানো যাবে তো?

জঙ্গল পথে অথবা জঙ্গলের পাশ দিয়ে রেল চলাচল করলে প্রায়শই বন্য জন্তুরা প্রাণ সংকটে পড়ে। ট্রেনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণী বিশেষত হাতির মৃত্যুর ঘটনা প্রায়শই প্রকাশ্যে আসে। এমতাবস্থায় বন্যপ্রাণ রক্ষার্থে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করলো উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। ডুয়ার্সের ঘন জঙ্গল পথে ট্রেন চলাচলের সময় যাতে দূর্ঘটনাবশত বন্যপ্রাণী বিশেষত হাতির মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয় সেই উদ্দেশ্যে আগামী বছর থেকে আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশন লাগোয়া জঙ্গলে “পাইলট প্রজেক্ট” শুরু করা হবে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার অনশূল গুপ্তা এই “পাইলট প্রজেক্ট” এর বিষয়টি জানিয়েছেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে বন দপ্তরের অধিকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জঙ্গল পথ ঘুরে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা গুলি পরিদর্শন করেছে রেল দপ্তর। বন্যপ্রাণ রক্ষার্থে রোডম্যাপ তৈরি করার জন্য উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার তথা আলিপুরদুয়ার স্টেশনে ডিআরএম অনশূল গুপ্তা সম্প্রতি বনবিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন।

ডুয়ার্সের চম্পামারিতে সেই বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর মিলেছে। বৈঠক শেষে বনদপ্তর এর তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণ রক্ষার্থে আগ্রহী রেল দপ্তর। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে সব রকমের সহায়তা এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রেল। এক্ষেত্রে আগামী দিনে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে সে সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট ভবিষ্যতে পেশ করা হবে বলে জানাচ্ছেন বন বিভাগের অধিকর্তারা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জঙ্গল পথে প্রায়শই রেললাইন পারাপার করে বন্য জীবজন্তুরা। রাতের অন্ধকারে অনেক সময় চালকের অজান্তেই ট্রেন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় বন্য প্রাণীদের। এমতাবস্থায় রেললাইনে যদি সেন্সর লাগানো যায় তাহলে তার আশেপাশে কোথাও হাতি থাকলে আগে থেকেই টের পাওয়া সম্ভব হবে। এতে অবশ্যম্ভাবী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। এছাড়াও শেষ মুহূর্তেও কিভাবে ট্রেন থামিয়ে বন্যপ্রাণ রক্ষা করা যায় সেই সম্পর্কে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্দেশ্যেই “পাইলট প্রজেক্ট” গ্রহণ করছে রেল দপ্তর।