তদন্তকারীদের হাতে এল সুশান্তের ব্যক্তিগত ডাইরি, প্রকাশ্যে এল অবাক করা তথ্য

সুশান্তের মৃত্যুর পর তার তদন্ত দেয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে। তদন্ত ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেবার পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফের আরও একবার সুশান্তের বাড়ি এবং তার ফার্ম হাউসে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালান। সেই তদন্তেই এবার সুশান্তের ব্যক্তিগত একটি ডায়েরি র বিভিন্ন নোটস বৃহস্পতিবার। লোনাভলায় তার ফার্ম হাউসে গিয়ে তা উদ্ধার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

কি রয়েছে সুশান্তের সেই ডাইরিতে? ২০১৮সালের ২৭ এপ্রিল সুশান্ত তার দৈনিক রুটিন লিখে রেখেছেন তার ডায়রিতে। তা থেকে জানা যায় যে, রাত আড়াইটার সময় ঘুম থেকে উঠতেন সুশান্ত। এরপর তিনি চা পান করে স্নান করতেন। প্রতিদিন তিনি বেদ মন্ত্র জপ করতেন। বেদ মন্ত্র জপ করার আগেই তিনি কিছুক্ষণ আকাশের তারা দেখতে পছন্দ করতেন। তবে এই সবকিছুর মধ্যে অন্যতম একটি জিনিস গুলো, একটি জায়গায় তিনি নো স্মোকিং লিখে তাদের টিক মার্ক দিয়ে রেখেছেন। যা থেকে বোঝা যায় যে তিনি ধূমপান ছাড়তে চেয়েছেন। অন্তত একদিনের জন্য হলেও তিনি ধূমপান করেন নি।

এই ডাইরিতে আরো তিনি লিখে রেখেছেন যে, পরেরদিন তাকে কেদারনাথ ফিল্মের চিত্রনাট্যের করতে হবে। সময় কাটাতে হবে কৃতি র সঙ্গে। কৃতি অর্থাৎ বলিউড অভিনেত্রী কৃতি সানন, যার সঙ্গে সুশান্তের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। আরেকটি নোটে তিনি কিছু অলীক চিন্তার কথা লিখেছেন। “সঠিক উত্তর বলে কিছু হয়না। যদি হয় তাহল ভালো প্রশ্ন”।”সুখ কেন”?”সমস্যার সমাধান কি করে হবে”? এই রকম আরো কিছু কথা তিনি লিখে রেখেছেন ডাইরিতে।

আরেকটি নোটে তিনি কবির এবং রুমিদের উক্তি লিখে রেখেছেন। কবিরের উক্তির মধ্যে তিনি লিখেছেন,”যখন আমি ছিলাম, ঈশ্বর ছিলেন না। তখন ঈশ্বর আছেন, আমি নেই”। রুমির বিখ্যাত উক্তি,”তুমি যাকে খুঁজছো, সে তোমাকে খুঁজে নিতে চাইছে”। এছাড়াও তৃতীয় নয়ন, কৈলাস, যোগ, তপস্যা, নাসা ইদানিং নিজের মতামত লিখেছে সুশান্ত।

ইতিমধ্যেই প্রয়াত অভিনেতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা অরুণ বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন। তিনি বলেছিলেন যে, রাজপুত বংশোদ্ভূত এ কখনো আত্মহত্যা করে না। তাই আমার বিশ্বাস যে সুশান্ত কিছুতেই রাজপুত হতে পারে না। অন্যদিকে ভাইয়ের মৃত্যু শোক কমানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু দিনের জন্য বিদায় নিলেন সুশান্তের বোন শ্বেতা সিং কীর্তি।