রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রের দাবিতে নেপালে বিক্ষোভ, কাঠমান্ডুতে রাস্তায় নেমেছে জনগণ

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির দাবি মেনে সে দেশীয় রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারী সরকার ভেঙে দিয়েছেন। যে কারণে স্বভাবতই সরকার বিহীন নেপাল এখন রীতিমতো অশান্ত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমনই যে পুলিশ ও প্রশাসনও এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। নেপালের রাজনৈতিক মহল থেকে আরম্ভ করে আমজনতা এখন কার্যত সে দেশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাজতন্ত্র স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।

নেপালের রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সমর্থকরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। সরকার ভেঙে যাওয়াতে এমনিতেই দেশজুড়ে টানাপোড়েন চলছে। তার উপর আবার রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির আন্দোলনের জেরে রীতিমতো নাজেহাল প্রশাসন। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই নেপালে রাজতন্ত্র ফেরানো এবং নেপালকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবারেও নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রত্নাপার্কে একটি জনসভার আয়োজন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সমর্থকরা। শুধু তাই নয়, এদিন কাঠমাণ্ডুর ভিড়কুটিমণ্ডপ এলাকা থেকে প্রায় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী স্লোগান দিতে দিতে মিছিল বের করেন। তারা তাদের স্লোগানে বলছিলেন, প্রয়োজনে প্রাণ দেবেন, কিন্তু নেপালকে হিন্দুরাষ্ট্রের তকমা ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই তারা ছাড়বেন না।

বিক্ষোভের জেরে এদিন কাঠমান্ডু শহরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। আরপিপির চেয়ারম্যান কমল থাপা ও পশুপতি শামশের রানা এদিন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে সমালোচকদের দাবি, অলির উস্কানিতেই নেপালে এমন অশান্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। নেপালে এমন বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তিনি নিজেকে কার্যত “সর্বশক্তিমান” হিসেবেই প্রমাণ করতে চাইছেন।