ভিড় সামলাতে মহালয়ায় দক্ষিণেশ্বর মন্দির বন্ধ রাখার প্রস্তাব, চিঠি পুলিশের

প্রতিবছর মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষ শুরু হবার জন্য বহু মানুষ গঙ্গায় পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে যান। তবে এই বছর মহালয়ার প্রাক্কালে দক্ষিণেশ্বরের মন্দির ঘাটে তারপর বন্ধ থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দক্ষিণেশ্বরের কমিটির আধিকারিকরা। যেহেতু মহালয়া দিন বহু মানুষ একত্রে সমাগম হয়ে তর্পণ করেন, সেহেতু সে দিন প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে কিছুদিন আগে বেলুড়মঠে বেশকিছু জনের সংক্রমণ ধরা পড়ায়, বন্ধ আছে বেলুড় মঠের মন্দির। তাই বেলুড় মঠের গঙ্গার ঘাটে এবার পাওয়া যাবেনা তর্পণ করা সুযোগ। ইতিমধ্যেই দক্ষিণেশ্বর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছেন নবান্ন। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলেন যে, ওই দিন যাতে মন্দিরে পুণ্যার্থীদের প্রবেশ পুরোপুরি ভাবে বন্ধ রাখা হয়, তার জন্য ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ডিসি আনন্দ রায় এই প্রসঙ্গে বলেন যে,”এই বছর প্রত্যেকের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর মন্দির চত্বরে মহালয়ার দিন ভিড় করেন বহু পুণ্যার্থী। তাই এই বছর ভিড় এড়ানোর জন্যই মন্দির বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে”। এই প্রসঙ্গে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের সম্পাদক কুশল চক্রবর্তী বলেন যে,”দূরত্ব বিধি যাতে কোনভাবে লঙ্ঘন না করা হয় তার জন্য মহালয়ার দিন গঙ্গার ঘাটে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেবীপক্ষের সূচনা অসংখ্য মানুষ মায়ের দর্শন করতে আসেন।এই বছর অসংখ্য দর্শনার্থীদের বঞ্চিত করা কতটা উচিত হবে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”।

প্রতিবছর মহালয়ার দিন দক্ষিণেশ্বরের মন্দির চত্বরে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী সমাগম করা হয়। ভোর চারটের সময় মন্দিরের দরজা খোলার পর মন্দির চত্বরে ভিড় বাড়তে থাকে।মন্দিরের দরজা খুলে যাবার পরই মন্দিরের চাঁদনী ঘাট, শ্রী মায়ের ঘাট বকুলতলা ঘাট এবং পঞ্চবতী ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড় জমা হয়। একে একে পুণ্যার্থীরা তর্পণ করে,স্নান সেরে মায়ের পুজো দিয়ে বাড়ি যান। প্রতিবছর অগণিত ভক্তদের ভিড় সামলানোর জন্য বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

তবে এই বছর পরিস্থিতি অনেকটাই অন্যরকম।বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দক্ষিণেশ্বর মন্দির দর্শন এর একাধিক বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মনের দিন দক্ষিণেশ্বরের ঘাট এর দিকে যাওয়া রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা থাকবে। এই প্রসঙ্গে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবিরা নন্দ মহারাজ বলেছেন যে,”আমরা এই বিষয়ে অতিব দুঃখিত। এবছর মানুষ তর্পণ করার সুযোগ পাবেন না। বেলুড়মঠে বহু প্রবীণ সন্ন্যাসী রয়েছেন বলে তাদের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে”।