প্রধানমন্ত্রী CARE ফান্ডে কোটি কোটি টাকা অনুদান চিনা সংস্থার, কেন্দ্রকে তোপ কংগ্রেসের

বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ চাপে আছে কেন্দ্র তথা বিজেপি সরকার। একদিকে রাজ্য সরকার ক্রমাগত অর্থের নয় ছয় করার অভিযোগ তুলছে কেন্দ্রের দিকে, অন্যদিকে কংগ্রেস লাদাখ সীমান্তের বিষয়টিকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের আঙুল তুলছে কেন্দ্রের দিকে। লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় সেনা নিহত হবার পর থেকেই মোদি সরকার সমস্ত ভারতবাসীকে আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দেন। এরইমধ্যে দিন কয়েক আগে বিজেপি কংগ্রেস এর নামে অভিযোগ তোলেন যে, তারা রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের জন্য চীন থেকে অনুদান নিচ্ছে।

এই অভিযোগের রেশ ধরেই এবার কেন্দ্রীয় শাসক কে পাল্টা আক্রমণ করল সোনিয়া গান্ধীর দল। কংগ্রেসের দাবি, “প্রধানমন্ত্রী কেয়ার ফান্ড” তহবিলে কয়েক কোটি টাকা মিলেছে চীনের বিভিন্ন সংস্থা। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চীনের প্রতি দুর্বল বলেও ব্যঙ্গ করেছেন।

কংগ্রেসের এই অভিযোগের বিপক্ষে বিজেপির তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলের সূত্র একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে,”করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কেয়ার ফান্ড তৈরি করেছিলেন, এই তহবিলে আর্থিক অনুদান এবং রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন এর মত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনুদান দুটো এক জিনিস নয়। রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন সোনিয়া গান্ধী এবং তার গান্ধী পরিবার।

এর আগেও চিনা সংস্থাগুলি থেকে অনুদান গ্রহণের জন্য কেন্দ্রকে কাটগড়ায় তোলেন কংগ্রেস মুখপাত্র অভিশেক মানু সিংভি। তিনি তার এক বিবৃতিতে বলেন যে,”প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ২০ মে পর্যন্ত বিতর্কিত তহবিলে ৯ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন।

এই বিবৃতিতে তিনি মোট আটটি প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, “HUAWEI-এর থেকে ৭ কোটি টাকা অনুদান প্রধানমন্ত্রী কি গ্রহণ করেছিলেন? এই HUAWEI-এর সঙ্গে কি চিনের লালফৌজের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে? ৩৮ শতাংশ চিনা মালিকানাধীন Paytm কি এই তহবিলে ১০০ কোটি টাকা দান করেছিল? XIAOMI কি প্রধানমন্ত্রী কেয়ার ফান্ডে ১৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে? চিনা সংস্থা OPPO কি প্রধানমন্ত্রীর এই তহবিলে ১ কোটি টাকা দান করেছে?”

প্রধানমন্ত্রীর কেয়ার ফান্ড নিয়ে এই বিতর্ক তুলে কংগ্রেস পরবর্তী ইলেকশনের জন্য কতটা এগিয়ে গেল তার একমাত্র সময় বলবে। কিন্তু এই রাজনৈতিক বিতর্ক চীনা পণ্য বয়কটের এই বিষয়টিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল।