পুরোহিত ভাতাতেও স্বজনপোষণ! তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে উত্তাল মালদা

আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জন-মত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের প্রত্যেক বাসিন্দার মন পেতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল বিরোধী সমালোচকেরা রাজ্য সরকারকে “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তোষণকারী” হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন। এই দুর্নাম মেটাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুরোহিতদের জন্যেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেষ হিন্দু পুরোহিতদের উদ্দেশ্যে মাসে হাজার টাকা সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু তাতেও সমালোচনার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। পুরোহিতেরা এই বার ভাতা দুর্নীতি নিয়েও তৃণমূলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন। “তৃণমূলের সমর্থনকারী না হলে পুরোহিত ভাতা পাওয়া যাচ্ছে না!”, রাজ্যের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ আনছেন পুরোহিতরা।

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের পুরোহিতেরা এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এহেন অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে “বঙ্গীয় পুরোহিত সভা”র সদস্যরা একযোগে মালদার বিডিও অফিসের সামনে গত মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এই সংগঠনের প্রধান সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তীর অভিযোগ, পুরোহিতেদের ভাতা প্রদান নিয়ে স্বজনপোষণ করছে শাসক দল। ভাতা পেতে গেলে শাসকদলের হয়ে নাম লেখাতে হবে, এমনটাই বলা হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, শাসকদলের স্বজনপোষণ নীতির শিকার হয়েছেন ওই সংগঠনের ১৯৭জন সদস্য। এরা কেউই ভাতা পাননি বলে দাবি করছে সংগঠন। তৃণমূল ব্লক সভাপতি মানিক দাস অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেছেন, বেশ কিছু জায়গায় পুরোহিতেরা ইতিমধ্যেই ভাতা পেতে শুরু করেছেন। বাকি অঞ্চলগুলিতে ভাতা প্রদানের কাজ চলছে। শীঘ্রই পুরোহিতের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।