হাথরাসে নির্যাতিতার বাড়ি যেতে তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে বাধা, পুলিশের ধাক্কায় পড়ে যান ডেরেক

উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এখন কার্যত বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বিরোধীরা যাতে কোনোভাবেই সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে উত্তেজনা না ছড়াতে পারে তার জন্য সব রকম ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। কংগ্রেস দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী গত বৃহস্পতিবার হাথরাসে প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়ে বাধা পেয়েছেন। এমনকি রাহুল গান্ধীকে গ্রেপ্তারও করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এবারে তৃণমূল নেতৃত্বদেরও উত্তরপ্রদেশে একই বাধার সম্মুখীন হতে হলো।

শুক্রবার সকালে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’‌ব্রায়েন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মমতাবালা ঠাকুর এবং প্রতিমা মণ্ডল নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্য হাথরাস পৌঁছান। কিন্তু নির্যাতিতার বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্বেই তাদের আটকাবার জন্য ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ প্রশাসন। তৃণমূল নেত্রীত্বরা এগোনোর জন্য বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও তাদের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

বরং ১৪৪ ধারার দোহাই দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, হাথরাস গ্রামে প্রবেশ করতে পারবেন না বহিরাগতরা। ডেরেক ও’ব্রায়েন অবশ্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন, অন্ততপক্ষে তাদের দলের দুজন মহিলা কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু তাতেও নারাজ প্রশাসন। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অনুসারে তৃণমূল নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছে।

পাশাপাশি, পরিবারের অনুমতি না নিয়েই মৃতার শরীর চুপিসারে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার বিরুদ্ধেও সওয়াল করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গতকাল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন কংগ্রেস দলনেতা রাহুল গান্ধী। আজকে ধাক্কাধাক্কির সময় ডেরেক ও’ব্রায়েনও মাটিতে পড়ে যান। পুলিশ প্রশাসনের এই আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্বরা প্রশ্ন তুললেন, সমস্ত নিয়ম মেনে, শান্তিপূর্ণভাবেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তারা। তাহলে তাদের বাধা দেওয়া হল কেন?