বিশে বিষ, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় “গোনি” আছড়ে পড়লো উপকূলে, গতিবেগ ছিলো ২২৫ কিমি

চলতি বছরটা পৃথিবীবাসীর জন্য একেবারেই শুভ নয়। একে মহামারীর বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই চালাচ্ছে সারা বিশ্ব। তার মধ্যেই একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। এবার চলতি বছরের সবথেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হলো ফিলিপাইনস। ভয়ঙ্কর শক্তিশালী এই টাইফুনের নাম দেওয়া হয়েছে “গোনি”। “গোনি”র আঘাতে রীতিমতো ছিন্নবিচ্ছিন্ন ফিলিপাইনস।

সূত্রের খবর, গত রবিবার ফিলিপাইন্সের পূর্ব উপকূলে জনবহুল লুজনের কাতান্দুয়ানিজ দ্বীপ এবং তার নিকটবর্তী আলবে প্রদেশে সবথেকে বেশি শক্তির সঙ্গে আঘাত করে “গোনি”। ঘন্টায় এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিল প্রায় ২২৫ কিলোমিটার। ভয়ঙ্কর ঝড়ের তাণ্ডবে ইতিমধ্যে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঝড়ের প্রকোপ এতটাই বেশি ছিলো যে, সোমবারেও ফিলিপাইন্সের একাধিক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এবং মুষলধারে বৃষ্টির জেরে এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে বেশ কিছু জায়গায় বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু জায়গা ভূমি ধ্বসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে।

ফিলিপাইনের রেডক্রসের প্রধান রিচার্ড গর্ডন জানালেন, কাতান্দুয়ানিজ দ্বীপ এবং আলবায়ে সহ বেশ কিছু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে রীতিমতো আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে, আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার জেরে এবং প্রশাসনের তৎপরতায় উপকূলবর্তী এলাকা থেকে আগেভাগেই বেশ কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো সম্ভব হয়েছিল।

যার ফলে প্রাণহানির সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় আনা সম্ভব হয়নি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপে বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।