গান গেয়েই মানুষের স্মৃ’তি ফিরছে! এবার কলকাতায় চা’লু হলো মেমোরি ক্লি’নি’ক

মনের দুঃখ যন্ত্রণা সবকিছু ভুলিয়ে দিতে পারে গান। কিন্তু ভুলে যাওয়া ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে গান, এ কথা হয়তো আগে শোনা যায়নি। ছোটবেলার কথা পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। ৪০ বছরের পুরনো স্মৃতি ফিরে এলো রাগ সঙ্গীতের হাত ধরে। এইভাবে শুধুমাত্র একজনের নয়, এমন অনেক মানুষের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সঙ্গীতের মাধ্যমে। স্মৃতি মুছে যাওয়ার আশঙ্কা ডিমেনশিয়া থেকে রোগীকে ফিরিয়ে আনছে খাম্বাজ কাফি আশাবরী অথবা জৌনপুরী রাগ। সংগীতের দ্বারা ফিরে আসছে ফিকে হয়ে যাওয়া স্মৃতি। এই প্রসঙ্গে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এই ভুলে যাওয়া রোগ। আগামী বছরের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষ স্মৃতি হারিয়ে ফেলবেন। এই মুহূর্তে দেশের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। পশ্চিমবঙ্গের বয়স্কদের মধ্যে প্রায় কুড়ি শতাংশ মানুষ স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু এমন হওয়ার কারণ কি?

চিকিৎসকদের মত অনুযায়ী, জীবন যত জটিল হয়ে যাচ্ছে, তাতো ফিকে হয়ে যাচ্ছে স্মৃতি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্কের কোষগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে দেখা যাচ্ছে ডিমেনশিয়া। তবে শুধুমাত্র বার্ধক্য জনিত কারণে নয়, স্ট্রোক অথবা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে আঘাত লাগলে এই রোগে আক্রান্ত হয় সেই ব্যক্তি। ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস্ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সিদ্ধার্থ শংকর আনন্দের কথায়, সাধারণ ভুলে যাওয়া মানেই কিন্তু ডিমেনশিয়া নয়। অনেকক্ষণ ধরে কিছু মনে করার চেষ্টা করছেন, বা কোন তারিখ মনে করার চেষ্টা করছেন কিন্তু ভুলে যাচ্ছেন, রোজকার ওষুধ খেতেও ভুলে যাচ্ছেন অনেকেই, এগুলি কিন্তু বার্ধক্যে স্বাভাবিক লক্ষণ। অনেক সময় শরীরের পুষ্টির অভাব দেখা গেলেও এই সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে মানুষ।

স্বাভাবিক উপসর্গ হলে আপনা আপনি আপনার কথাগুলো মনে পড়ে যাবে, কিন্তু ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে তা হয় না। 72 ঘন্টা কেটে গেলেও মনে পড়েনা প্রিয়জনের নাম, গুলিয়ে যায় রাস্তার নাম। এই সমস্ত মানুষের জন্যই তৈরি করা হয়েছে মেমারি ক্লিনিক। পূর্ব ভারতে ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্সে অভিনব এই ক্লিনিকের পথ চলা শুরু হলো আজ। শুধুমাত্র সঙ্গীত এর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে স্মৃতি।

স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কের ভিতরে থাকে চারটি লোব। ফ্রন্টাল লোব, পেরিয়েটাল লোব, অক্সিপেটাল লোব, টেম্পোরাল লোব। এগুলি মস্তিষ্কের প্রত্যেকটি ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ডিমেনশিয়া অসুখী নষ্ট হয়ে যায় চারটি লোবের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। গান শুনলে সেই গানের দৃশ্য মনে মনে কল্পনা করতে পারলে আস্তে আস্তে ফিরে আসতে পারে স্মৃতি। এছাড়াও ছবি আঁকার মাধ্যমেও ফিরে আসতে পারে স্মৃতি।কোন ওষুধ নয় বরং প্রাকৃতিক ভাবে মানুষকে সুস্থ করার চেষ্টা শুরু হয়ে গেল আজ থেকে।