স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না থাকার অজুহাতে ফেরানো যাবে না রোগী, হাসপাতালগুলিকে কড়া বার্তা ফিরহাদের

রাজ্য সরকারের এবারের নতুন পদক্ষেপ, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকা ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে দ্বারস্থ হলে তাদের কোনো ভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দের ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। যদি কোন ব্যক্তি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ছাড়া উপস্থিত হয় তাকে কোনোভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না, আর এই কথার অমান্য হলেই হাসপাতালের ওপরে নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ। এই নিয়ে কলকাতার পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড জমা দেওয়ার জন্য সেই রোগীর পরিবারকে 24 ঘন্টা সময় দেওয়া হবে।

আর সেই সময়কার খরচ মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। গতকাল শনিবার রাজ্য সরকারের কাছে রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছিল, আর সেই নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছিলেন পুরসভার শীর্ষ কর্তারা।এই রোগী ফেরানোর অভিযোগ শুনতে পেয়ে ফিরহাদ হাকিম ক্ষুব্দ হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দের বলেন, আগে মানুষকে সুস্থ করে তুলুন তারপর চিকিৎসা বাবদ সমস্যা নিয়ে বচসা করবেন।

আসলে গত শুক্রবার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের ওপর ফের অভিযোগ উঠেছে রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার। বিভিন্ন রোগীর পরিবারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই ক্ষুব্ধ’ রাজ্য সরকার। সরকারি নির্দেশ থাকা সত্বেও তারা কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রোগী ফিরিয়ে দেবে? অনেক বেসরকারি নার্সিং হোম হাসপাতলে নির্দিষ্ট না থাকায় ও পরিষেবা না থাকার অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।তাই গতকাল শনিবারের বৈঠক স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে এখন থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকলে ও রোগী ফিরিয়ে দেওয়া যাবেনা।তাছাড়া স্বাস্থ্য সাথী পরিষেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিং হোম গুলোকে আলাদা ওয়ার্ড চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিনের বৈঠকে বিভিন্ন রোগ হিসেবে তার নির্দিষ্ট রেট বৃদ্ধির দাবি জানায় বেসরকারি নার্সিংহোমে সিইও, জেনারেল ম্যানেজার, সহ ডিরেক্টরেরা। অবশ্য এই সংক্রান্ত বৈঠক রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে ইতিমধ্যে হয়ে গেছে তাদের। বর্তমান রেট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিবেচনাধীন আছে বলেই স্বাস্থ্য দপ্তরের এক শীর্ষকর্তা গতকাল জানিয়ে দিয়েছে। আগের তুলনায় হেল্পডেস্ক এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যেখানে আট টি সংখ্যা ছিল সেখানে কুড়িটি সংখ্যা করা হয়েছে।নিরানব্বই লক্ষ মানুষ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর আবেদন করেছে ইতিমধ্যে 76 লক্ষ মানুষ হাতে কার্ড পেয়েছে।