পড়াশোনা না করায় বাবা-মায়ের বকুনি, দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গোয়াতে পার্টি কিশোরের

অনেকেরই মুখে শোনা যায় একটি কথা, আমাদের সময় যদি থাকতো, তাহলে দেখিয়ে দিতাম শাসন কাকে বলে। কথাটা অনেকাংশে কিন্তু সত্যি। এখনকার সন্তানেরা সেভাবে শাসন কাকে বলে জানেই না। বরং সন্তানের ভয় থাকতে হয় বাবা-মাকে। বেশি মারধর করলে আত্মহত্যা করার ভয় দেখায় সন্তানেরা। এমতাবস্থায় দোটানায় পড়ে যায় সমস্ত বাবা-মা। এমনই একটি ছেলেকে শাসন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে যেতে হল বাবা মাকে। পড়াশোনায় মন নেই বলে স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মা তাকে বকাঝকা করেন। মন দিয়ে পড়াশোনা করার কথাও বলেন তাকে। কিন্তু এর ফলে যে উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হবে তা বুঝতে পারেনি বাবা-মা। বাবা মায়ের কথায় কান না দিয়ে রীতিমত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সেই ছেলে। বাড়ি থেকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে গোয়াতে গিয়ে পার্টি করে সে।

এমন একটি ঘটনা ঘটেছে গুজরাটের একটি অঞ্চলে। ছেলেটি ক্লাস টেনের ছাত্র। সামনেই তার বড় পরীক্ষা। এমতাবস্থায় পড়াশোনায় মন নেই বলে বাবা মা মাঝে মাঝে তাকে বকাঝকা করেন। কিন্তু বাবা মায়ের কথায় কান না দিয়ে সে চলে যায় পার্টি করতে। পরে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে গোয়া থেকে উদ্ধার করতে হয় পুলিশকে।

পুলিশের কাছে কিশোরের বাবা-মা অভিযোগ করেন যে, পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকা করাতে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সন্তান। এরপর গোয়াতে বিভিন্ন ক্লাবে এবং রেস্তোরাঁতে সেই টাকা খরচ করে সে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কিভাবে ছেলেটি গোয়া তে পৌঁছে গেল? গুজরাট থেকে গোয়া কম দূরত্ব নয়। পুলিশের অনুমান অনুযায়ী, এর আগেও হয়ত গোয়াতে এসেছিল সেই কিশোর। তাই রাস্তাঘাট তার আগে থেকেই চেনা ছিল। তাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনে করে গোয়াতে যাবার পরিকল্পনা করে সে। কিন্তু আধার কার্ড না থাকার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে পারে না সে।

এরপর বাসে চেপে সে প্রথমে পুনে যায়। পুনে থেকে আরেকটি বাসে করে গোয়া। সেখানেই নাইট ক্লাব সুইমিং এবং রেস্তোরাঁতে নিজের মতো করে খরচ করে সে। এভাবে বেশ কয়েকদিন কাটানোর পর যখন টাকা ফুরিয়ে আসে, তখন বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে সেই কিশোর। যেভাবে সে গোয়াতে গিয়েছিল সেভাবেই ফেরার চেষ্টা করে সে।

পুনেতে এসে একটি সিম কার্ড কিনে ফেলে সে। সেলফোনে লাগিয়ে দেয় সেই সিম কার্ড।এর পর ফোন করে ট্রাভেল এজেন্ট এর অফিসে যায় গুজরাটের ফেরার টিকিট বুক করবে বলে। তবে সেখানেই ঘটে বিপত্তি। ফোন করা ইস্তক তাকে ট্র্যাক করে ফেলে পুলিশ। যতক্ষণ সে ট্রাভেল এজেন্ট এর অফিসে পৌঁছাতে সময় নেয়, ততক্ষণ পুনে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয় ভদদরা পুলিশ। এরপর ওই ট্রাভেল এজেন্ট এর অফিসে গিয়ে শুক্রবার ওই কিশোরকে ধরে ফেলে পুলিশ। তারপর ২৬ তারিখ বাবা মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাকে।