হংকং নিরাপত্তা আইন পাশ, তাইওয়ানের মধ্যেও বাড়ছে আতঙ্ক! চিনের অন্দরেই চলছে লড়াই!

সম্প্রতি স্বায়ত্তশাসন প্রাপ্ত হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক নতুন আইন পাশ করিয়েছে বেজিং। এই আইনের মাধ্যমে হংকং এর স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বলেই মত হংকংয়ের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এই নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এরই মাঝে চীনের আরেক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তাইওয়ান আতঙ্কগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এরপর হয়তো বেজিং হাত বাড়াবে স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের উপর।

১৯৪৯ সালে, মাও সে তুং এর নেতৃত্বে চীনা কমিউনিস্টদের সাথে জাতীয়তাবাদ সমর্থকদের গৃহযুদ্ধ বাঁধে। এই যুদ্ধে পরাজিত জাতীয়তাবাদীরা অবশেষে তাইওয়ান দ্বীপে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই চিনের নজর রয়েছে তাইওয়ান দ্বীপের উপর। মাও সে তুং হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, যেনতেন প্রকারেণ একদিন তাইওয়ানকে বেজিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন। এর আগে বহুবার তাইওয়ানে হংকং এর মত “এক দেশ, দুই ব্যবস্থা” নীতি চালু করার চেষ্টা করে চীন।

তাইওয়ানে বর্তমানে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ নিজেদের “চিনি” পরিচয় দেওয়ার বদলে “তাইওয়ানিজ” পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাইওয়ান কার্যত চীনের সাম্রাজ্যবাদী স্বৈরতন্ত্রী নীতির বিরুদ্ধে। নিজেদেরকে স্বাধীনভাবে, চীনের করায়ত্ত থেকে মুক্ত করে রাখতে চান তারা। তাইওয়ান এর প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন তাইওয়ানকে কখনোই “অখন্ড চীনের অংশ” মানতে রাজি নন।

হংকংয়ে বহুদিন ধরেই চীনের দমন নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই চালাচ্ছিলেন বিক্ষোভকারীরা। নতুন আইনে বলা রয়েছে, হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের শাস্তি নির্ধারণ করতে পারবে চীন। এর ফলে কার্যত বিক্ষোভকারীদের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলে কুঠারাঘাত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এখন থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সঙ্গে হংকংয়ের স্কুল-কলেজ এবং গ্রন্থাগারগুলির উপর কড়া নজর রাখবে চীন।

হংকং এর স্বাধীনতা আন্দোলনকে এভাবে শ্বাসরোধ করে দেওয়ায়, কার্যত অন্যান্য গণতান্ত্রিক এবং স্বায়ত্তশাসন প্রাপ্ত অঞ্চলগুলিতেও আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। তাইওয়ান, তিব্বত এবং শিনজিয়াং এ যেকোনো মুহূর্তে হংকং এর মত পদক্ষেপ নিতে পারে চীন, ফলে আতঙ্ক গ্রাস করছে চীনের গণতান্ত্রিক অঞ্চল গুলিতে।