ফের ভারতের উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান, কিনবে চিনি-তুলো

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করা প্রসঙ্গে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ভারত-পাকিস্তান আন্তর বাণিজ্য সম্পর্ক প্রভাবিত হয়েছে। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ভারতের তরফ থেকে জম্বু কাশ্মীরের উপর ৩৭০ ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক প্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে প্রভাবিত হয়েছে উভয় প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তবে এবার উভয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা হলেও উন্নতির পথে এগোচ্ছে।

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী হাম্মাদ আজহার সম্প্রতি জানিয়েছেন, পাকিস্তান এবার ভারত থেকে তুলো এবং চিনি আমদানি করতে চায়। পাকিস্তানের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। কারণ উভয়ই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে কার্যত উভয় তরফেই বেশ ক্ষতি হয়েছে। এবার সেই ক্ষতি পূরণ করে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

প্রসঙ্গত, উপত্যকা অঞ্চলের উপর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পরপরই পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত দ্রব্যের উপর আমদানি শুল্ক ২০০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। পাকিস্তান থেকে প্রধানত সিমেন্ট, নুন এবং খেজুর আসে ভারতে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়াতে এই দ্রব্যের দাম এত বৃদ্ধি পায় যে পাকিস্তান থেকে এগুলি ভারতে আসা একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়।

এর ফলে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সিমেন্ট কারখানা বন্ধও হয়ে গিয়েছে। আবার দেশের চাহিদা পূরণ করতে আফগানিস্তান এবং দুবাই থেকে নুন এবং খেজুর আমদানি করতে হয়েছে ভারতকে। তবে পাকিস্তানের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে উভয় তরফের ব্যবসা-বাণিজ্য ফের চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এখন ভারত সরকারের কাছে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আবেদন পাকিস্তানের দ্রব্যের উপর যে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপানো হয়েছে, তা যেন বাতিল করা হয়।