পৃথিবী থেকে অক্সিজেন পৌঁছচ্ছে চাঁদে! এই প্রথম চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল চন্দ্রযান-১

সম্প্রতি, এক আন্তর্জাতিক সায়েন্স জার্নাল “সায়েন্স অ্যাডভান্সেস”এ চাঁদ সম্পর্কে এক চাঞ্চল্যকর গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরির বানানো ‘মুন মিনার‌্যালোজি ম্যাপার ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা (এম-থ্রি)র মাধ্যমে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর ‘চন্দ্রযান-১’ মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকদের কাছে চাঁদের বেশ কিছু ছবি তুলে পাঠায়। সেই ছবি এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ক্রমশই যেন চাঁদে “মরচে” ধরছে!

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বহু কোটি বছর আগে থেকেই চাঁদের মরচে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে, আশ্চর্যের বিষয় হলো, চাঁদের জলের অস্তিত্ব নেই, বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের উপস্থিতিও নেই। অথচ মরচে ধরার জন্য এই দুটি উপকরণ প্রয়োজনীয়। তাহলে চাঁদের গায়ে মরচে পড়ছে কিভাবে! এই নিয়ে হাজারবার ভেবেও কূলকিনারা পাচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। তবে, সম্প্রতি নাসার এম-থ্রির চিত্রে ধরা পড়ে চাঁদে বরফের উপস্থিতি রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বহু বছর আগে চাঁদের হয়তো কিছুটা বায়ুমণ্ডল ছিল। তবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অত্যন্ত কম হওয়ায়, চাঁদে উপস্থিত সেই বায়ুমণ্ডল মহাকাশে বিলীন হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের দাবি, সৌরজগতে হাইড্রোজেন আয়নসমৃদ্ধ সৌর বায়ুর দাপট চলে। যদি চাঁদে অক্সিজেন থাকত, তাহলে সেই অক্সিজেনকেও হাইড্রোজেন সমৃদ্ধ সৌর বায়ু মুহূর্তের মধ্যে জলে পরিণত করে দেবে। তাই চাঁদে, অক্সিজেন থাকাটা একেবারেই অনভিপ্রেত।

চাঁদের মাটি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, এই মাটি লৌহ সমৃদ্ধ। তবে সম্প্রতি চাঁদের চিত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে সেখানে হেমাটাইট পাওয়া গেছে, যা আসলে মরচেরই নামান্তর। বিজ্ঞানীদের একাংশের ধারণা, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে অতি সামান্য পরিমাণে অক্সিজেন চাঁদের দিকে উড়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, পৃথিবী থেকে আগত এই অক্সিজেন আবার পূর্ণিমার দিনগুলিতে সৌর বায়ুকে আটকে দিতে সক্ষম। ফলে চাঁদে যথাযথভাবে অক্সিজেন পৌঁছচ্ছে, এবং তাদের দুই মেরুর পাথরে মরচে ধরছে।