একের পর এক রকেট হামলা কাবুলে, ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা

প্রতীক ছবি

ভয়াবহ রকেট বিস্ফোরণের সম্মুখীন হতে হলো আফগানিস্তানের রাজধানী শহরকে। কাবুল শহরে শনিবার সকাল থেকেই একের পর এক রকেট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। উল্লেখ্য, কাবুলের গ্রীন জোনের অন্তর্গত যে এলাকায় এদিন রকেট বিস্ফোরণ ঘটেছে তার নিকটবর্তী অঞ্চলেই আফগানিস্তানের বিদেশী দূতাবাসগুলি অবস্থিত। ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে একের পর এক রকেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় স্বভাবতই এলাকায় উত্তেজনা এবং চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিদেশি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার আচমকা রকেট হামলার ঘটনায় ওই এলাকার অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, কাবুলের যে অঞ্চলে এদিন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে সেখানে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার দপ্তর রয়েছে। ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা গুলিকে লক্ষ্য করেই রকেট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে।

আফগানিস্তানের প্রশাসনিক দপ্তর সূত্রে খবর, এদিন সকাল থেকে পর পর অন্তত ১৪টি রকেট বিস্ফোরণ ঘটেছে। উল্লেখ্য, কোনো জঙ্গি সংগঠনের তরফ থেকে এখনও এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে তালিবান যোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। কারণ গত শুক্রবারেই মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেওর সঙ্গে তালিবান এবং আফগানিস্তানের সরকারের মধ্যস্থতা কারীদের বৈঠকে বসার কথা ঘোষণা করা হয়।

এই ঘোষণার ঠিক একদিন পরেই রকেট আক্রমণের ঘটনা আফগান সরকারকে বেশ ভাবাচ্ছে। তালিবানদের দাবি মেনে আফগান সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুসারে, ২০২১ সালের মধ্যেই আমেরিকাকে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। প্রসঙ্গত, বিগত ছয় মাসে তালিবানের তরফ থেকে আফগানিস্তানের উপর ৫৩টি আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। তালিবান জঙ্গীদের দ্বারা সংঘটিত ১২৫০টি বিস্ফোরণের জেরে সেদেশের অন্তত ১২১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত আরো প্রায় ২৫০০জন। এরই মাঝে কাবুলের বুকে আবারো ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হলো।