বিরোধীদের চাপ, অবশেষে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে মৃত্যুর সংখ্যা জানাল কেন্দ্র

প্রবল বিতর্কের পরে অবশেষে সংসদের বাদল অধিবেশনে শনিবার রাজ্যসভার বৈঠকে কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হলো, ৯ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে মোট ৯৭জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখে পড়ে অবশেষে এই তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হল কেন্দ্র। উল্লেখ্য, এর আগের দিনের অধিবেশনে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ার জানিয়েছিলেন, লকডাউন এ কতজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে তার কোনো হিসেব কেন্দ্রের কাছে নেই।

কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুহূর্তের মধ্যেই সোচ্চার হতে থাকেন বিরোধীরা। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিশেষ করে, পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা না করেই কেন্দ্রের লকডাউন ঘোষণার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন অনেক বিরোধী দলনেতা। এবার কেন্দ্রের কাছে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো তথ্য না থাকার স্বীকারোক্তি নিয়েও কটাক্ষ করতে শুরু করেন বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী বরাবরই করোনা পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্র ব্যর্থ, বলে কটাক্ষ করে এসেছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে একটি টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, কেন্দ্রীয় সরকার জানেন না দেশে লকডাউনে কতজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা বিশ্ব দেখেছে বাড়ি ফিরতে গিয়ে কিভাবে একের পর এক প্রাণ হারিয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। পাশাপাশি, কেন্দ্রের প্রতি কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, এই সরকারের কাছে মানুষের মৃত্যুর কোনো গুরুত্ব নেই। মোদি সরকার মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো তথ্য রাখেননি, তাই বলে কেউ মারা যাননি এমনটা নয়।

কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। পাশাপাশি, এনডিএ শরিক দলগুলির কর্মীরাও কেন্দ্রের এই দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন। অবশেষে বিরোধীদের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়ে এ পর্যন্ত ৯৭ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানাতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র।