আতঙ্কের মাঝে সুখবর, ভারতে ধিরে ধিরে কমেছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা

আমরা সবাই জানি এখন সারা বিশ্ব করোনা নিয়ে কতটা আতঙ্কিত। মানুষ এখন অনেক শহরেই গৃহবন্দী। বিশ্বের প্রায় ২০০টির মতো দেশে ছড়িয়ে গেছে এই করোনা। প্রায় এই সব দেশে জারি করা হয়েছে লক ডাইন। এদিকে ভারতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ, ভারতের প্রায় সমস্ত রাজ্যে কার্ফু, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দেশের সব সরকার এখন এই কথাই ভাবছে, এই সিদ্ধান্তই নিচ্ছে, যাতে মানুষ ঘরের মধ্যেই সুস্থ থাকে।

এখন ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৬। এর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে (১০ ভারতীয় ও ২ বিদেশি)। তো এই সংখ্যা যাতে এবার কোনোভাবেই বেড়ে না যায়, তাই ভারত সরকার এবার একটা করা পদক্ষেপ নিল। গত ২২ মার্চ ভারত জুড়ে জনতা কার্ফুর ডাক দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী। যেটা সবাই মেনেছিল। এবার সেটাকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী আজ দেশের উদ্দেশ্যে বার্তা দিল, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে সারা দেশে সম্পূর্ণ লক ডাউন শুরু হয়ে যাবে। আর এই লক ডাউন আগামী ২১ দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তো গত ২২ মার্চ রবিবার জনতা কার্ফুর ডাক দেওয়া হয়েছিল, সেটা নিয়ে সবাই অনেকেই অনেক কথা বলেছিল, কিন্তু সেটা ভারত বাসীরা পক্ষেই গিয়েছিল। সেই জনতা কার্ফুর ফলে মানুষের ওপরে যে ইতিবাচক প্রভাব পরেছে সেটাকে কেন্দ্র করেই আজ এই সারা দেশ লক ডাউনের সিদ্ধান্ত। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কিভাবে জনতা কার্ফু ভারতবাসীর ওপরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে? আসলে গত শুক্রবার থেকে ভারতের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বিচার করলে দেখা যাবে, আজকের সংখ্যা অনেকটাই কম। হ্যাঁ।

গত শুক্রবার ২০ মার্চ ভারতে করোনা আক্রান্তকারীর সংখ্যা ছিল ২২৩ জন। তারপরে ২১ মার্চ শনিবার ,যেদিন সব থেকে বেশী করোনা আক্রান্তকারীর সংখ্যা বেড়েছিল ভারতে। একদিনে ৯২ জন। আর সেই মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩১৫ তে। কিন্তু এর পরের থেকেই দেখা গেছে সংখ্যাটা ধীরে ধীরে কমতে থাকে ভারতে। আমরা সব কিছুর খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু আমরা এই সংখ্যার খোঁজ না নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।

আসলে ২২ মার্চ রবিবার সারাদিন ভারতে জনতা কার্ফু পালন করা হয়। আর তারফলেই ভারতের মানুষ থাকে গৃহবন্দী। আর এটাই ভারতের জন্য একটা ইতিবাচক দিক বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ২২ মার্চ সেই দিন থেকেই ভারতে করোনা আক্রান্তকারীর সংখ্যা আজকে পর্যন্ত নিন্মগামী।

২২ মার্চ রবিবার আক্রান্তকারীর সংখ্যা ছিল ৮১ জন, তার ফলে ভারতে মোট ৩৯৬জন। তারপর ২৩ মার্চ দেখা যায় একদিনে আক্রান্তের সংখ্যাটা আরও কম হয় ৭৫ জন, আর মোট দাঁড়ায় ৩৭১ জন, আর ২৪ মার্চ মঙ্গলবার দেখা যায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৫, যা মোট দাঁড়ায় ৫৩৬।

তাহলে বোঝাই যাচ্ছে সেই জনতা কার্ফু ভারতের জন্য ইতিবাচক দিকের সূচনা করেছে। তাহলে ভারত সরকার দ্বারা গোটা দেশে লকডাউন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারতের জয় হতে পারে। সবাই নিয়ম মেনে চললে হয়তো এই ভাইরাসের হাত থেকে রেহাই পাবে ভারত।