গত দু’বছরে বাংলায় একজন কৃষকও আত্মঘাতী হননি, কেন্দ্রের রিপোর্টে স্বীকৃতি পেল রাজ্য

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে “ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো” তথা NCRB’র একটি রেকর্ড পেশ করা হয়েছে। যার রিপোর্ট থেকে জানা গেল, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলার একজন কৃষকও চাপে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেননি। যা বাংলার পক্ষে নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে সারাদেশের নিরিখে বিগত এক বছরে কৃষক আত্মহত্যার হার ৭.৪ শতাংশ বলেই জানাচ্ছে রিপোর্ট।

উল্লেখ্য, মমতা সরকারের জমানায় রাজ্যের কৃষি পরিকাঠামো বেশ উন্নত হয়েছে বলেই দাবি করে আসছিল রাজ্য শাসক দল। রাজ্য সরকারের দাবি অনুসারে, বিগত সাত-আট বছরের মধ্যে রাজ্যের কৃষকদের আয় প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। তৃণমূলের আমলে ব্রাজ্জের কৃষকেরা ব্যাপকহারে কৃষিঋণ পেয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কৃষকদের উন্নত ফলনের জন্য সার-বীজ সহ নানা পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে।

যার ফলে, দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলা কৃষকদের আর্থিক অবস্থা বেশি উন্নত। কৃষকেরা লাভের মুখ দেখেছেন। ঋণের দায়ে, হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়নি তাদের। বিগত দুই বছর ধরে এ রাজ্যের একজন কৃষকও ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেননি। রাজ্যের এই সফলতার পুরস্কার স্বরূপ বিগত ছয় বছর ধরে কেন্দ্রের কৃষি কর্মণ পুরস্কার পেয়েছে বাংলা।

তবে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির অবস্থা কিন্তু এখনও বেশ শোচনীয়। সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, কৃষক আত্মহত্যার নিরিখে বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে কংগ্রেস ও শিবসেনা শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্র, বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা। হিসেব অনুযায়ী, বিগত দুই বছরে সারাদেশের প্রায় ৪২ হাজার ৪৮০ জন কৃষক এবং দিনমজুর আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। সারাদেশের নিরিখে যা যথেষ্টই উদ্বেগজনক।