সুদের উপর আর সুদ দেওয়া হবে না, সুপ্রিম কোর্টকে সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার

শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়, ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্ম লোনের বা সুনির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহিতাদের মোরাটোরিয়ামের মেয়াদের জন্য বকেয়া সুদের উপর কোনো সুদ দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঋণগ্রহীতাদের সেই সুদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর আবহে ঋণগ্রহীতাদের উপর থেকে অতিরিক্ত ঋণের বোঝা কমাতে আরবিআই তরফ থেকে ঋণ পরিশোধ করার মোরাটোরিয়াম বা ইএমআই প্রদানের মেয়াদ আগামী ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

আরবিআইয়ের নির্দেশ অনুসারে, দেশের প্রতিটি ব্যাঙ্ক আগামী বছরের ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত মোরাটোরিয়ামের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের তরফ থেকে দুটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। প্রথমত, মোরাটোরিয়ামের সুবিধা নেবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত গ্রাহকের উপরেই ছাড়া হয়। দ্বিতীয়ত, আগামী ছয় মাস ইএমআইয়ের সুদ না দিলে সেই সুদের উপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ধার্য করে ব্যাঙ্ক। এখন যদি কোনো গ্রাহককে ঋণ বাবদ প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়, তাহলে তার মধ্যে আসল বাবদ তিনি দিচ্ছেন ১২ হাজার টাকা এবং বাকি ১৮ হাজার টাকা টাকা সুদ বাবদ দিতে হবে।

ব্যাংকের মোরাটোরিয়ামের নিয়ম অনুযায়ী ১৮ হাজার টাকা সুদের উপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি তিন মাসের মেয়াদের মোরাটোরিয়াম নিতে চান তাহলে তিন মাসের জন্য তাকে সুদ বাবদ ৫৪ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। ব্যাংকের এই নতুন নিয়মে কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায় গ্রাহকদের মধ্যে। কারণ এর থেকে মাসিক কিস্তিতে ইএমআই দেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করছেন গ্রাহকেরা। ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন গ্রাহকেরা।

সুপ্রিমকোর্টে তরফ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দেয়, যেসকল গ্রাহক দু’কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদের এই বাড়তি সুদ দিতে হবে না। তবে ব্যাংককেও লোকসানের মুখে ফেলবে না কেন্দ্র। তাই বকেয়া সুদের উপর চক্রবৃদ্ধি হারে যে সুদ জমা হবে তা ব্যাংককে মিটিয়ে দেবে কেন্দ্র। এর ফলে সুবিধা পাবেন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় এবং ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা গুলি।