“নাইটি ঠাম্মা”, ৮২ বছর বয়সেও পরিবারের একমাত্র ভরসা, তাঁরই ইনকামে চলছে সংসার

লকডাউন শুরু হওয়ার আগে স্কুলে স্কুলে নাইটি বিক্রি করতেন 82 বছর বয়সী বৃদ্ধা পলতার বাসিন্দা কাদম্বিনী ধর। স্কুলের টিচারদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন নাইটি ঠাম্মা নামে। এখন ভারতবর্ষ জুড়ে শুরু হয়েছে আনলক পর্ব। অনেক কিছুই খুলে দেয়া হলেও খোলা হয়নি স্কুল। তাই এই নাইটি ঠাম্মা আর্ট স্কুলে গিয়ে নাইটি বিক্রি করতে পারেন না। নাইটি বিক্রি করার জন্য তিনি বাড়ি বাড়ি ফেরি করা শুরু করেছেন। এক ছেলে-বৌমার দরিদ্র সংসারের তিনি হলেন একজন রোজগেরে মানুষ।

বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরি করতে গিয়ে একদিন পৌঁছালেন ইছাপুরের জুহি চক্রবর্তীর বাড়িতে। জুহি তো দেখে ভিখারি ভেবে কিছু টাকা সাহায্য করতে গেছিলেন ওই ঠাকুমাকে। ঠিক তখনই ঠাকুরমা বলে ওঠেন মামনি একটি নাইটি নেবেনেবে? ভর দুপুর বেলায় এই কথা শুনে জুহি তো অবাক হয়ে গেল। দশটা থেকে বারোটার বেশি নাইটি বই আনতে তার এই বৃদ্ধ শরীরটি সায় দেয় না। মেন রোডে তিনি অটো চেপে একটি এলাকায় নাইটি বিক্রির জন্য যান। কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় হেঁটে কাঁধে নাইটির ব্যাগ নিয়ে তিনি বিক্রি করেন। বড় বড় ফ্ল্যাট এর সিঁড়ি ভেঙে চারতলায় পর্যন্ত ওঠেন।

কিন্তু ছেলে বৌমা থাকতেও কেন এই বৃদ্ধ বয়সে উনাকে নাইটি বিক্রি করতে হচ্ছে ? এর উত্তরে জুহির কাছ থেকে জানা যায় ওই মহিলার বিবাহ হয়েছিল এক রেডিও শিল্পীর সাথে। ঐ শিল্পীর নাম ছিল হরেকৃষ্ণ। কিন্তু ঐ শিল্পীর সাথে সংসার করা হয়ে ওঠেনি কাদম্বিনীর। তাকে ছিঁড়ে ওই শিল্পী অন্য জায়গায় সংসার পাতেন। এই ঠাম্মার এক ছেলে মাছ বিক্রি করতো। একদিন মাছ বিক্রি করতে গিয়ে সাইকেল থেকে পড়ে ব্রেন স্ট্রোক হয়। স্ট্রোকে ওই ছেলেটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এখন উনার স্ত্রী উনাকে দেখেন আর রোজগারের জন্য ঠাম্মার কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে এই নাইটির ব্যাগ।

বর্তমান যুগে অনলাইনে জিনিস কেনাবেচার সুবিধা অনেক বেড়েছে। এই জুহিও অনলাইনে গহনা বিক্রি করেন। তখন জুজি ওই ঠাকুরমার ফটো দিয়ে নাইটির ছবিগুলি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে। প্রথমেই নটি নাকি বিক্রি হয়ে যায়। তারপর ওই পোস্ট দেখে স্কুলের ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করে। এইভাবে আরও 40 টি নাইটি বিক্রি হয়। ঠাকুরমা খুশি হয়ে জুহিকে একটি না একটি উপহার দেন। জুকি এই ঠাকুর মার প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ অভাবের তাড়নায় তিনি ভিক্ষাবৃত্তি বেঁচে না নিয়ে নাইটি বিক্রি করে তার লড়াইটাকে চালিয়ে যাচ্ছেন।