শিক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি উত্তর কোরিয়ায়, চাপে এবার শিশুরাও

রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের দেশ উত্তর কোরিয়ায় সম্প্রতি শিশু শিক্ষার বিষয়ে এক নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার প্রি-স্কুলে পাঠরত প্রত্যেক পড়ুয়াকে এবার থেকে দিনে ৯০ মিনিট করে সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের জীবনী পড়তে হবে। আর, উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রপ্রধান যদি একবার কোনো নির্দেশ দেন, তাহলে বিরোধিতা সত্ত্বেও তা মুখ বুজে মেনে নিতে হয় দেশবাসীকে। নয়তো বিদ্রোহ কারী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ওঠে।

সম্প্রতি, এই খবর প্রকাশিত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদ মাধ্যমে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে দেশবাসীর উদ্দেশে জানিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি আস্থা বাড়াতে এবং মহত্ব শিক্ষা বিষয়ক পাঠ লাভের উদ্দেশ্যে এবার থেকে প্রতিদিন ৯০ মিনিট করে বাচ্চাদের রাষ্ট্রপ্রধানের জীবনী পড়া বাধ্যতামূলক।

এই শিক্ষাব্যবস্থাকে “গ্রেটনেস এডুকেশন” এর আওতায় ফেলা হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য হলো, শৈশব থেকেই শিশুদের উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি আনুগত্য বাড়ানো। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ায় অবশ্য এই নীতি বহুদিন আগে থেকেই চলে আসছে। তবে এতদিন প্রি-স্কুলের পড়ুয়া অর্থাৎ ৯ থেকে ১২ বছর বয়সি পড়ুয়াদের প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে কিমের জীবনী পড়তে হতো। বর্তমানে সেই সময়টা বাড়িয়ে ৯০ মিনিট করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ায় প্রি-স্কুলে পাঠরত পড়ুয়াদের শরীর শিক্ষা খেলাধুলা এবং কোরিয়ান বর্ণমালা শেখানোর ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবার থেকে সেই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলো মহত্ব শিক্ষা, যার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত সময় বের করতে হবে। এই সময়ে শিশুরা কিমের শৈশব জীবন সম্পর্কে জানবে। তার সাথে তার বাবার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে বিশদে জানবে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, নতুন নির্দেশিকা নিয়ে অবশ্য অসন্তুষ্ট উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দারা। তবে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করার সাহস নেই তাদের।