ছেড়া জিন্স পরে রাস্তায় তরুণী, পুলিশ ডেকে আনলেন প্রতিবেশীরা

ব্যক্তিগত ব্যাপারে প্রতিবেশীদের নাক গলানো শুধুমাত্র ভারতেই নয়,বিদেশেও যে সমানভাবে চলে তারই প্রমাণ পাওয়া গেল কিছুদিন আগে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাইরে একটি ভিডিও শুট করছিলেন মহিলা। তার পরনের পোশাক প্রতিবেশীদের পছন্দ না হওয়ায় তারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসতে ওই নৃত্যশিল্পী খুব ভালোভাবেই পুলিশকে জানান যে,তার ব্যাপারে রকম হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই প্রতিবেশীদের। এই কথা তিনি তার প্রতিবেশীদের ও জানিয়েছিলেন।ওই ধরনের পোশাক অথবা ভিডিও করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে তার। কিন্তু এরপরেও পুলিশকে ডেকে নিয়ে আসে প্রতিবেশীরা।

সম্পূর্ণ ঘটনাটি রেকর্ড করা হয় একটি ক্যামেরা তে। তারপর টিকটকের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে। মাত্র কয়েক মিনিটের ভিডিও ইতিমধ্যেই দেখে ফেলেছেন ১১ মিলিয়ন লোক। ভিডিওতে পুলিশ আধিকারিক এর উদ্দেশ্যে রোভিকে বলতে শোনা যায়, তিনি সম্পূর্ণ পোশাক পরে রয়েছেন।কোন ভাবে তার জামা পরার ধরন প্রতিবেশীদের পছন্দ হয়নি। প্রতিবেশীরা তাই পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে তার মনে হয়েছে যে, যেহেতু প্রতিবেশীরা এইভাবে পোশাক পরতে পারেন না তাই কিছুটা ঈর্ষান্বিত হয়ে পুলিশে খবর দিয়েছেন তারা।

এই ঘটনায় অবশ্য পুলিশের তরফ থেকে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা হয়নি। পুলিশ আধিকারিকরা ওই নৃত্য শিল্পীর সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত জানান। অবশ্যই একজন নাগরিক হিসাবে সম্পূর্ণ অধিকার আছে একজনের যে কোনো পোশাক পরার।তবে ওই টিকটকার জানান যে, প্রতিবেশীরা যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে, তাতে তিনি ভেবেছিলেন যে পুলিশ হয়তো তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে কিন্তু তা হয়নি। শনিবার ভিডিওটি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে যাবার পর বহুবার রিটুইট করা হয়। অনেকেই ভিডিওটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন। মন্তব্য এবং পাল্টা মন্তব্যে ভরে গেছে ভিডিওটি। তবে বেশিরভাগ মানুষ পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন যে এইভাবে তিনি সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আবার একজন লিখেছেন যে, প্রতিবেশীরা হয়তো মনে করেছিলেন যে, পুলিশ এসে আপনার ড্রেসকোড তৈরি করে দেবেন। আবার অন্য একজন লিখেছেন যে, আসলে প্রতিবেশীর স্বামী হয়ত আপনাকে দিয়েছিলেন। তাই তিনি রাগ করে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।তবে এই ঘটনার পরেও ওই টিকটক আবার একই পোশাক পরেছেন এবং একিভাবে ভিডিও প্রকাশ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। রিপড ডেনিম শর্ট এবং সিলভার ক্রপ টপ পরে দেখা গিয়েছে তাকে। পায়ে ছিল বুট। এই পোশাক সকলের কাছে খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। দ্বিতীয় ভিডিওটি ছাড়ার পরেও সেটি সমানভাবে ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। প্রতিবেশীর হস্তক্ষেপ আরো একবার এই টিকটকার কে সকলের কাছে জনপ্রিয় করে দেয়।