সুন্দরবনে রহ’স্য’জ’ন’ক ঘ’ট’না, হটাৎ উধাও দেশের একমাত্র রেডিও কলার লাগানো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

ভারতের একমাত্র রেডিও কলার পরানো বাঘটিকে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! যার ফলে যারা সেই বাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন, তারা বেজায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। গত ১১ই মে শেষবারের মতো বাঘটির গতিবিধি ট্রেস করা সম্ভব হয়েছিল। সেসময় বাংলাদেশের অন্তর্গত সুন্দরবন এলাকায় বাঘের গতিবিধি টের পাওয়া গিয়েছিল। এরপর থেকেই আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

আপাতত সেই রেডিও কলার লাগানো বাঘের খোঁজ পেতে মরিয়া প্রতিষ্ঠিত চালিয়ে যাচ্ছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। এক্ষেত্রে বেশ কিছু সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হয় বাঘটি মরে গিয়ে থাকতে পারে, নয়তো কোন কারণে তার গলার রেডিও কলারটি নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। বাঘের গলা থেকে রেডিও কলারটি খুলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন প্রযুক্তিতে বানানো এই ধরনের রেডিও কলার আসলে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকতে পারে। তবে সুন্দরবনের নোনা জলে সেগুলি দেড় বছরের মধ্যেই খারাপ হয়ে যেতে পারে। আসলে সুন্দরবনের বাঘ জলে সাঁতার কাটতে থাকে। যে কারণে তার গলায় লাগানো রেডিও কলার জলের সংস্পর্শে এসে মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই খারাপ হয়ে যায়। এখন বাঘের মৃত্যুর কারণে নাকি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে রেডিও কলারটি আর কাজ করছে না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।

সুন্দরবনের বাঘের গতিবিধি বোঝার জন্যই কার্যত বাঘের গলায় রেডিও কলার পরানো হয়। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ কাঁকড়া কিংবা মধু জোগাড় করতে গিয়ে প্রায়শই বাঘের হামলা সম্মুখীন হতে হয় সুন্দরবনের বাসিন্দাদের। তাই বাঘের গতিবিধি আগে থাকতে টের পেয়ে তাদের সতর্ক করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কার্যত এই ব্যবস্থা নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সেই রেডিও কলারের আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।