মুর্শিদাবাদের রানিতলার ৬ কিমি রাস্তা বেহাল, বাড়ছে ক্ষোভ

ভগবানগোলা – ২ ব্লকের খড়িবোনা এবং রানিতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মুজাফফরের মোড় থেকে রানিতলা থানা যাওয়ার ৬ কিলোমিটার প্রধান রাস্তা সম্পূর্ণভাবেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দু’টি পঞ্চায়েতের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই রাস্তার পার্শ্ববর্তী প্রায় ১০-১৫টি গ্রামের মানুষের সঙ্গী এখন নিত্যদিনের ভোগান্তি। এই দীর্ঘ রাস্তার অধিকাংশ জায়গা ভেঙে গিয়ে পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। তার সঙ্গেই বৃষ্টি আরও অসুবিধা বাড়িয়ে।

রাস্তার খানাখন্দে জল জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহুর আলি, আলমগীর হোসেন, আমিনুল শেখ, মানিক শেখের অভিযোগ, মাস চারেক আগে রাস্তায় নতুন ভাবে কাজ হলেও রাস্তার মধ্যে মধ্যে গর্ত হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ ফুসছে রাগে । পঞ্চায়েত থেকে কিছুদিন আগে ভাঙ্গা গর্তে ফেলা হয়েছে ইঁট , তবুও রাস্তার গর্ত যেমন ছিল ঠিক তেমনই রয়ে গেছে ।
রাস্তার মধ্যে বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে হাঁটুজল , বাধ্য হয়ে রাস্তার জল পরিষ্কার করতে নামতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের নিজেদেরকেই।

গ্রামবাসীদের একটাই দাবি রাস্তা ও জল নিকাশি ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করতে হবে ।বারবার সংস্কারের দাবি জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি।এই রাস্তার হাল অত্যন্ত খারাপ। এই রাস্তার মধ্যে ঝিকরা, নশিপুর, রানিতলা,দেবাইপুর, বাড়িয়া নগর সহ বেশকিছু গ্রাম রয়েছে। ওই গ্রামগুলি থেকে এই রাস্তা ব্যবহার করে রানীতলা সহ অন্যত্র যাতায়াত করা যায়। অন্যদিকে এই রাস্তা ব্যবহার করে খুব সহজেই রানীতলা থানা যাওয়া যায়। এই রাস্তার মধ্যবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় তিন চার মাস ধরে এই ভোগান্তি চলছে। বর্ষাকালে অসুবিধা আরও বাড়ে। পিচ উঠে হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

গর্তে জল জমে অনেক সময়ই দুর্ঘটনাও ঘটছে। ওই রাস্তায় ছোট অটো চলাচল করে। পাশাপাশি ওই এলাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজপড়ুয়াদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে খানাখন্দে ভরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাস্তা সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত ও প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও ভ্রুক্ষেপ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, যত শীঘ্র সম্ভব রাস্তা সংস্কার ও নিকাশি নালার ব্যবস্থা করা হোক।

ভগবানগোলা – ২ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে গ্রামবাসীদের এই অসুবিধার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। পুনরায় রাস্তা সংস্কার করার জন্য জেলা পরিষদে জানানো হয়েছে। এবছরের প্রথমে ওই রাস্তাটি নির্মাণ করার জন্য এবং কীভাবে রাস্তা তৈরি হবে সাথে নিকাশি ব্যবস্থা করা যাবে কিভাবে তার নকশাও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, লকডাউন থাকায় নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এলাকার মানুষ নতুন রাস্তা সহ নিকাশি নালা উপহার পাবে।