মুকুল-দিলীপকে ডাক দিল্লিতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে আলোচনা

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মসনদ থেকে ঘাসফুল উপড়ে পরিবর্তে পদ্ম ফুল ফোটানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বঙ্গ বিজেপির নেতা নেত্রীরা এখন বাংলা দখলের লড়াইয়ে রীতিমতো মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা ভোট প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রায়শই বাংলা সফরে আসছেন। এবার দিল্লি থেকে তলব পেয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায় এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দিল্লি পৌঁছলেন।

বিজেপির অন্দরমহল সূত্রে খবর, চলতি দফার বৈঠকে ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও চলতি মাসের শেষের দিকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফের বাংলা সফরে আসছেন। তার সফরের রুপরেখাও এই বৈঠকের মাধ্যমে স্থির করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায় ছাড়াও অবশ্য রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৈলাস বিজয়বর্গীয়কেও এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন একুশের লড়াইয়ে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে ২০০ আসনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে বিজেপি। বঙ্গের দলীয় সংগঠন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে কতটা উদ্যোগী এবং বাংলায় বিজেপি সংগঠন কতটা মজবুত, সে সম্পর্কেই দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের সঙ্গে কথা বলতে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা। বিশেষত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খোদ এদিন বাংলার বিজেপির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ঝড় তুলেছিল বিজেপি। আসন্ন একুশের লড়াইয়ে জয়ের সেই ধারা অব্যাহত রাখা যাবে কিনা তার বিশ্লেষণ হবে আজকের বৈঠকে। একদিকে যেমন তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা দল ত্যাগ করে বিজেপির শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি করছেন তেমন মাঝে মাঝেই বিজেপি দলের অভ্যন্তরের গোষ্ঠী কোন্দলও প্রায়ই প্রকাশ্যে আসছে। এতে সাধারনের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। সে বিষয়েও বাংলার নেতাদের সাবধান করতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।