মা কালরাত্রি, গলায় ঝোলানো ব’জ্রে’র মা’লা, হাতে র’ক্ত মাখানো খাঁ’ড়া, জানুন দেবী দুর্গার ভীষণ রূপ

দেশজুড়ে এখন নবরাত্রি উৎসব পালন করা হচ্ছে। নবরাত্রির নয় দিনে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের আরাধনা করা হবে। আজ অর্থাৎ সোমবার, সপ্তম দিনে দেবী দুর্গার কালরাত্রি রূপের আরাধনা করা হবে। এই দেবীর গাত্রবর্ণ এবং তার আচরণের উপর ভিত্তি করে দেবীর এমন নামকরণ করা হয়েছে। দেবীর গাত্রবর্ণ কাজলের মতো কালো। তেমনই ভীষণ তার রূপ।

দেবীর শরীরে রয়েছে চারটি হাত। ওপরের ডান হাতে আশীর্বাদ, নীচের ডান হাতে অভয় মুদ্রা এবং ওপরের বাঁ হাতে খড়গ ও নীচের বাম হাতে রয়েছে লোহার কাঁটা রয়েছে এই দেবীর। ত্রিনয়নী দেবীর চোখ দুটি যেন একেকটি ব্রহ্মাণ্ড। তিনি এলোকেশী এবং তার গলায় রয়েছে বজ্রের মালা। পুরাণের বর্ণনা অনুসারে দেবী গাধার উপর বসে রয়েছেন এবং তার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস এর সঙ্গে ভয়ঙ্কর অগ্নিশিখা নির্গত হয়।

তবে তিনি কালরাত্রি রূপে উগ্রচন্ডা হলেও তিনি তার ভক্তদের শুভ ফল প্রদান করেন। যে কারণে তার আরেক নাম শুভংকরী। দুর্গার এই রূপের আরাধনা করলে দুষ্টের দমন হয়, গ্রহের বাধা দূর হয় এবং ভক্তদের আগুন, জল, জন্তু জানোয়ার, শত্রু ও রাত্রির ভয় থেকে মুক্ত করেন দেবী। ভক্তদের বিশ্বাস দেবীকে স্মরণ করলেই দৈত্য, দানব, রাক্ষস, ভূত ও প্রেত পালিয়ে যায়।

ভাগবত পুরাণের বর্ণনা অনুসারে দেবী কালরাত্রি চন্ড এবং মুণ্ড নামক দুই অসুরকে বধ করেন। যে কারণে তার অপর নাম দেবী চামুণ্ডা। ১০৮টি জবা ফুল দিয়ে দেবীকে আরাধনা করতে হয়। ক্ষীর ও খিচুড়ি সাজিয়ে তাকে ভোগ পরিবেশন করতে হয়।